বর্ধমান: ৮৫ উর্ধ্ব প্রবীণ নাগরিকদের বাড়িতে গিয়েই ভোটার তালিকার শুনানি সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু শনিবার প্রখর রোদে হুইলচেয়ারে চেপে কাটোয়া মহকুমা শাসকের দপ্তরে শুনানিতে হাজির হতে হল ৮৮ বছর বয়সী প্রাক্তন সেনাকর্মী বিমলাচরণ পাঠককে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
বিমলাচরণ বাবু কাটোয়া বিধানসভার দীর্ঘদিনের ভোটার। তবে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম খুঁজে না পাওয়ায় তাঁকে নির্বাচন কমিশনের তরফে নোটিশ পাঠিয়ে সশরীরে শুনানিতে তলব করা হয়। কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ৮০ বা ৮৫ বছরের উর্ধ্ব ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আধিকারিকদেরই তাঁদের বাড়িতে যাওয়ার কথা। কিন্তু অসুস্থ শরীর নিয়ে বিমলাচরণ বাবুকে এদিন দেখা গেল লাইনে অপেক্ষা করতে।
এই ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কাটোয়ার বিধায়ক ও জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “কমিশন ঘোষণা করেছিল ৮৫ উর্ধ্বদের বাড়িতে গিয়ে শুনানি হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতির কোনো মিল নেই। ৮৮ বছরের একজন বৃদ্ধকে কেন অফিসে ডাকা হল, তা আশ্চর্যের।”
অন্যদিকে, কাটোয়ার মহকুমা শাসক অনির্বাণ বসু নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানান, কমিশনের তরফে বাড়িতে গিয়ে শুনানি করার কোনো লিখিত গাইডলাইন বা অর্ডার কপি এখনও তাঁদের হাতে পৌঁছায়নি। পাশাপাশি, ওই বৃদ্ধ ব্যক্তি আগে থেকে তাঁর শারীরিক সমস্যার কথা প্রশাসনকে জানাননি বলেও দাবি করেন তিনি। তবে লাইনে দেখার পরেই দ্রুত তাঁর নথি নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা জীতেন্দ্রনাথ ডকাল অভিযোগ করেছেন, তৃণমূল প্রথম থেকেই এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে এবং কমিশনের কাজে খুঁত খুঁজে বেড়াচ্ছে। বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাসের শুনানি কক্ষে ঢুকে ‘দাদাগিরি’ করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল আসলে নির্বাচন কমিশনের এই প্রক্রিয়াকে ভেস্তে দিতে চাইছে।
কমিশন সূত্রে খবর, কাটোয়া মহকুমার তিন বিধানসভা (কাটোয়া, কেতুগ্রাম ও মঙ্গলকোট) মিলিয়ে প্রায় ১৪ হাজার ভোটারের এসআইআর ফর্মে ‘ম্যাপ’ না হওয়ায় তাঁদের শুনানিতে ডাকা হয়েছে। এদিন ২০টি বুথের ২৬০ জন ভোটারকে ডাকা হয়েছিল। আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত এই শুনানি পর্ব চলবে।
