বর্ধমান: বাংলায় তৃণমূল জামানার অবসান ঘটার দিন থেকেই গা ঢাকা দিয়েও মিলল না রেহাই! অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন পূর্ব বর্ধমানের (Bardhaman) রায়না-২ নম্বর ব্লকের ত্রাস তৃণমূল (TMC) নেতা সৈয়দ কালিমুদ্দিন ওরফে বাপ্পা (Bappa)। মাধবডিহি থানার পুলিশ শনিবার রাতে বর্ধমান শহরের রেনেসাঁ উপনগরী এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই তৃণমূল নেতাকে পাকড়াও করে। জামিন অযোগ্য একাধিক ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে।
রবিবার কড়া পুলিশি পাহারায় কোমরে দড়ি পরিয়ে ধৃতকে পেশ করা হয় বর্ধমান আদালতে। রায়না-১ নম্বর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি বামদেব মণ্ডলের পর এবার রায়না-২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি গ্রেপ্তার হওয়ায় রায়নার রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন পড়ে গিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজু রায় নামক এক ব্যাক্তির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ সৈয়দ কলিমুদ্দিন ওরফে বাপ্পাকে গ্রেপ্তার করেছে। রাজু রায়ের বাড়ি মাধবডিহি থানার অন্তর্গত গোপালপুর গ্রামে। তিনি চলতি বছরের ২০ জুন মাধবডিহি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
সেই অভিযোগে তিনি জানান, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের দু’দিন কাটতে না কাটতে ৪মে সন্ধ্যায় সৈয়দ কালিমুদ্দিন ওরফে বাপ্পা তার সশস্ত্র দুষ্কৃতী বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর হোটেলে চড়াও হয়। তারা লোহার রড ও হাঁসুয়া দিয়ে ওইদিন নির্দয়ভাবে তাঁকে মারধর করে। হোটেলের কিছু সম্পত্তিও নষ্ট করে দেয়। এরপর দুষ্কৃতীরা তাঁর কাছে নগদ দুই লক্ষ টাকা দাবি করে। ওইদিন সেই টাকা তিনি দিতে না পারায় পরের দিন ফের তারা তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়। ওই দিনও তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করলে ওই দুষ্কৃতীরা শ্বাসরোধ করে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করে। পরে তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে তারা কিছু টাকা হাতিয়ে নিয়ে চলে যায়। ওইদিন যাওয়ার সময়ে দুষ্কৃতীরা তাঁর পরিবারকে হত্যার হুমকিও দিয়ে যায় বলে রাজু রায় পুলিশকে জানিয়েছেন।
এই প্রসঙ্গে এসডিপিও(বর্ধমান দক্ষিন) অভিষেক মণ্ডল বলেন, “সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সৈয়দ কলিমুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে। ধৃতকে এদিন বর্ধমান আদালতে পেশ করে ৫ দিনের পুলিশি হেপাজতে নেওয়া হয়েছে।”
এই গ্রেপ্তারি নিয়ে রায়নার বিজেপির বিধায়ক সুভাষ পাত্র এদিন বলেন, “তৃণমূল রাজত্বে গোটা রায়না বিধানসভা এলাকা জুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করে রেখেছিল দুই তূণমূল নেতা বামদেব মণ্ডল এবং সৈয়দ কলিমুদ্দিন। এরা এতদিন বিজেপি নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপর সীমাহীন অত্যাচার ও জুলুমবাজি চালিয়ে গিয়েছিল। এমন দুই তৃণমূল নেতা গ্রেপ্তার হওয়ায় তাই রায়নার মানুষ স্বস্তি পেলেন।”
যদিও এই প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা দেবু টুডু দাবি করেন,“এখন গোটা রাজ্য জুড়ে তৃণমূল নেতাদের মিথ্যা কেসে ফাঁসিয়ে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। রায়নাতেও তাই হয়েছে।”

