প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান: গর্ভে ছিলই না সন্তান। তবু চিকিৎসক, ব্লক স্বাস্থ্যকর্মী ও আশা কর্মীরা এক বধূকে গর্ভবতী (Pregnant) ধরে নিয়ে তাঁর চিকিৎসা করে যাচ্ছিলেন। এমনকি নির্দিষ্ট সময় অন্তর তাঁরা ওই বধূকে দিচ্ছিলেন ইনজেকশন এবং ওষুধ। এই আবহে শুক্রবার ওই বধূকে পূর্ব বর্ধমানের (Bardhaman) কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরেই প্রকাশ্যে আসে চিকিৎসায় গাফিলতির বিষয়টি। আল্ট্রাসোনোগ্রাফি রিপোর্ট সামনে আসতেই জানা যায়, বধূ ফুলবানু বিবি গর্ভবতী নন, তিনি আসলে ‘সিউডোসাইসিস’রোগে আক্রান্ত। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই এই গোটা ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
কাটোয়া (Katwa) হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ফুলবানু বিবি কেতুগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের হাট মুরগ্রামের বাসিন্দা। তাঁকে শুক্রবার সকালে সন্তান প্রসবের জন্য কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরিবারের দাবি, স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শেই তাঁকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তলপেটে ব্যথা নিয়ে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসাকর্মীরা তাঁকে লেবার রুমে নিয়ে যান। সেখানে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায় পরীক্ষা করে জানান, ফুলবানু বিবি আদৌ গর্ভবতী নন। তাঁর গর্ভে কোনও সন্তানই নেই। বিভ্রান্তি কাটাতে হাসপাতালের তরফে পুনরায় আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করা হলে, তাতেও একই রিপোর্ট আসে। চিকিৎসকদের মতে, ফুলবানু ফলস প্রেগন্যান্সি বা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় সিউডোসাইসিসে আক্রান্ত। এই অবস্থায় গর্ভধারণের মতো বিভিন্ন শারীরিক লক্ষণ দেখা যায়। তার ফলে অনেক সময় রোগী নিজেও নিজেকে গর্ভবতী বলে মনে করেন।
এদিকে এই সত্য সামণে আসার পরেই প্রশ্ন উঠেছে, চিকিৎসক ও ব্লকের স্বাস্থ্যকর্মীরা কেন এতদিন এই বিষয়টি বুঝতে পারলেন না? অভিযোগ, স্থানীয় আশাকর্মী ফুলবানুর নামে মা ও শিশু সুরক্ষা কার্ড পর্যন্ত ইস্যু করেছিলেন।
এই বিষয়ে ফুলবানুর বাবা ফুলচাঁদ শেখ বলেন,“ডাক্তারবাবু বলেছিলেন আমার মেয়ের পেটের বাচ্চার জণ্ডিস হয়েছে, সেইমতো ওষুধও দেওয়া হয়েছিল।” যদিও চিকিৎসক সোমনাথ মুখোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তিনি কখনও ফুলবানুকে গর্ভবতী বলেননি। তাঁর বক্তব্য, তিনি শুধুমাত্র আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
এমন ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ফুলবানু বিবি। প্রায় দশ মাস ধরে নিজেকে গর্ভবতী বলে বিশ্বাস করছিলেন তিনি। এদিন হাসপাতালে এসে সত্যিটা জানার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। হাসপাতাল সুপার বিপ্লব মণ্ডল জানিয়েছেন, গোটা ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে। দায়িত্বে থাকা ব্লক স্বাস্থ্যকর্মীকে শোকজ করা হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
