বর্ধমান: ভারতকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে ব্রিটিশদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিলেন বিপ্লবী রাসবিহারী বসু (Rash Behari Bose)। এহেন মহান বিপ্লবী ১৮৮৬ সালের ২৫ মে পূর্ব বর্ধমান (Bardhaman) জেলার রায়না ২ নম্বর ব্লকের বড়বৈনান অঞ্চলের সুবলদহ গ্রামে জন্মগ্রহন করেছিলেন। তৃণমূল আমলে বিপ্লবীর সেই পৈত্রিক জন্মভিটাতে ‘পাবলিক টয়লেট’ নির্মাণ হওয়ার অভিযোগ নিয়ে শুক্রবার বিধানসভার অধিবেশনে গর্জে উঠলেন পূর্বস্থলী উত্তরের বিজেপি বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায়। আগামী ১৫ আগষ্টের মধ্যে বুলডোজার দিয়ে যাতে ওই পাবলিক টয়লেট ভেঙে দেওয়া হয়, রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের কাছে এদিন সেই দাবিও রাখেন তিনি।
সুবলদহ গ্রামের অনেক বাসিন্দার দাবি, বিপ্লবী রাসবিহারী বসু আজ তাঁর নিজভূমেই ব্রাত্য। সুবলদহ গ্রামে বসবাস করা বিপ্লবীর অনুরাগীদের কথা অনুযায়ী, রাসবিহারী বসুর জন্মভিটা সংক্রান্ত ভূমিদপ্তরের বর্তমান রেকর্ডে রাসবিহারী বসুর নাম নাকি রাখা হয়নি। সেই বিষয়টি জানতে পারার পর থেকে রাসবিহারী বসুর অনুগামীরা তাঁর সম্পত্তি রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের পাতায় আজও স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর নাম। দেশ ও জাতি আজও এই বরেণ্য বিপ্লবীকে স্মরণ করে। কিন্তু এতসবের মধ্যেও নিজভূমেই ব্রাত্য হয়ে গিয়েছেন রাসবিহারী বসু। জন্মভূমি সুবলদহ গ্রামে থাকা পৈত্রিক ভিটের সরকারি রেকর্ড (মৌজা- সুবলদহ/জে,এল নম্বর-১৯৪ / দাগ নম্বর-৩১৫৭) থেকেও তাঁর নাম কাটা গিয়েছে। সেই কারণে ওই ভিটেতে রাসবিহারী বসুর স্মৃতি ধরে রাখার মতো কিছু করা যাচ্ছেনা। তাই স্থানীয় বাসিন্দারা চান বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর সম্মান রক্ষার জন্য এগিয়ে আসুক নতুন বিজেপি সরকার।
গ্রামবাসী মনসুর রহমান সাহানা বলেন, RS এবং CS রেকর্ডে সুবলদহ মৌজায় ৩১৫৭ দাগ নম্বরের সম্পত্তির মালিক হিসাবে রাসবিহারী বসু, বিজন বিহারী বসু এবং বিপিনবিহারী বসুর নাম নথিভুক্ত ছিল। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে LR রেকর্ডে একই দাগের সম্পত্তিতে এঁনাদের পরিবর্তে অন্য দু“জনের নাম রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। এটা কোন জাদুতে হল সেটা গ্রাবাসীদের কেউ বুঝে উঠতে পারছেন না । রেকর্ড সংশোধন করে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ১০ শতক সম্পত্তি যাতে তাঁর নামেই ফিরে আসে তার জন্য দু’বছর আগে ব্লকের ভূমি দপ্তরে আর্জি জানিয়েছিলেন গ্রামবাসীরা। কিন্তু আজ অব্দি রেকর্ড সংশোধন হয়নি।
রাসবিহারী বসুর জন্ম ভিটাতে ’পাবলিক টয়লেট’নির্মান হওয়া নিয়ে বিজেপি বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায়ের প্রতিবাদ যথার্থ বলে সুবলদহ গ্রামনিবাসী বিপ্লবীর অনুগামীরা এদিন দাবি করেছেন। তাঁরা জানান,২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে রাজ্য পর্যটন দপ্তরের দেওয়া ৩ লক্ষ ৪৪ হাজার ৩৮ টাকায় ওই পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়।
এই প্রসঙ্গে রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ এদিন জানান, বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর জন্মভিটাতে যদি পাবলিক টয়লেট নির্মান হয়ে থাকে তবে তা অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলাশাসকের(পূর্ব বর্ধমান) কাছেও পুরো বিষয়টি জানতে চাইবেন চলে শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন।

