উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দেড় বছরের টানাপোড়েন শেষে অবশেষে প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্কে (India-Bangladesh Relations) কি সুদিনের ইঙ্গিত? জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বন্ধ হওয়া ভিসা পরিষেবা (Bangladesh visa for Indians) ফের চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম কূটনৈতিক সূত্র উল্লেখ করে জানিয়েছে,, নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশন এবং আগরতলার সহকারী হাই কমিশন থেকে ভারতীয় নাগরিকরা ফের ভিসা পেতে শুরু করবেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের (Tarique Rahman) শপথ গ্রহণের পরপরই এই সিদ্ধান্তকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মেরামতের বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রেক্ষাপট ও সংঘাতের ইতি
২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ এবং ভারতের বিভিন্ন দূতাবাসে বিক্ষোভের জেরে গত ২২ ডিসেম্বর থেকে ভারতীয়দের ভিসা দেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল ঢাকা। তার আগে অশান্ত পরিস্থিতির জেরে ভারতও বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা পরিষেবা (Visa Replace) প্রায় বন্ধ করে দেয়। তবে এবার সেই অচলাবস্থা কাটতে চলেছে।
তারেক সরকারের নতুন বার্তা
সম্প্রতি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়ী হয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান। তাঁর শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তাঁদের মধ্যে ইতিবাচক বৈঠকের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ভিসা চালুর তোড়জোড় শুরু হলো। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, শুধু ঢাকা নয়, ভারতও বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা ফের স্বাভাবিক করার কথা ভাবছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত অনিরুদ্ধ দাস জানিয়েছেন, পরিষেবা চালুর প্রস্তুতি চলছে।
সম্পর্ক মেরামতের ইঙ্গিত
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। যদিও দুই দেশের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে কূটনৈতিক মহলের ধারণা, সীমান্ত বাণিজ্য ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ (Individuals-to-Individuals Contact) সহজ করতেই এই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত। গত দেড় বছরের ‘অন্তর্বর্তী জমানার’ পর গণতান্ত্রিক সরকারের হাত ধরে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী নতুন রূপ পেতে চলেছে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে দক্ষিণ এশিয়া।
