উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh explosion) ঢাকার (Dhaka) অদূরে সাভারের আশুলিয়া এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অন্তত সাতজনের প্রাণহানির খবর (Worldwide Information) পাওয়া গিয়েছে। এই দুর্ঘটনায় কারখানার কর্মচারী ও পথচারী সহ প্রায় ৪০ জন জখম হয়েছেন।
রবিবার সন্ধ্যায় জামগড়া চৌরাস্তা এলাকার প্রীতি গ্রুপের এফএনএস পোশাক কারখানার প্রাঙ্গণে লরির সিলিন্ডার বিস্ফোরণের এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিসের মোট ছয়টি ইউনিট। জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ও সাভার ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের দীর্ঘ প্রায় দুই ঘণ্টার যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।
জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাবুদ্দিন জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। অন্যদিকে ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউস ইনস্পেক্টর আব্দুস সালাম জানান, কারখানার সীমানা প্রাচীরের বাইরে থাকা সিলিন্ডার ভর্তি লরি থেকে এই বিস্ফোরণ ঘটে। লরির কাছ থেকেই পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে একজনের মৃতদেহ লরির ভেতর এবং বাকিদের মরদেহ বাইরে পড়েছিল। এছাড়া সিলিন্ডারের টুকরো বা বিস্ফোরণের জেরে পার্শ্ববর্তী একটি দোকানের ওপর পড়ায় জয়নাব বেগম নামের এক দোকানমালিকের মৃত্যু হয়েছে। বাকি ছয়জনের পরিচয় এখনও জানা সম্ভব হয়নি।
প্রীতি গ্রুপের এফএনএস কারখানার অ্যাডমিন-ম্যানেজার হেমায়েত উদ্দিন বলেন, কারখানার সীমানা প্রাচীরের বাইরে থাকা লরির সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে এই আগুনের সূত্রপাত ঘটে। তবে তার দাবি, ঘটনার আগেই কারখানার ভেতরের সব শ্রমিক নিরাপদে বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। তবে কাভার্ড ভ্যান বা লরির পাশে অবস্থান করা বেশ কয়েকজন মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তির জানান, বিকট শব্দের সেই বিস্ফোরণ ও আগুনে অনেকে হতাহত হন। তিনি নিজে উদ্যোগী হয়ে দুজন দগ্ধ সহ গুরুতর আহত এক শ্রমিককে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠান। এছাড়া কারখানার পাশের রাস্তায় চলাচলরত রিকশাচালক সহ অন্তত পাঁচজন এই দুর্ঘটনায় আঘাত পান। বিস্ফোরণের অভিঘাতে বয়লার বা পাইপের ভারী লোহার খণ্ড উড়ে গিয়ে আশপাশের বাড়িঘর ও রাস্তায় ছিটকে পড়ে, যার ফলে হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় নারী ও শিশুস্বাস্থ্য হাসপাতাল সহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশিদ জানান, এই পর্যন্ত তাদের হাসপাতালে ১৬ জন আহতের চিকিৎসা চলছে। তাদের মধ্যে তিনজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে।

