উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সাধারণ নির্বাচনে (Bangladesh Election 2026) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ২০ বছর পর মসনদে ফিরছে বিএনপি (BNP Victory)। তবে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে নির্বাচিত সরকারের (Bangladesh Authorities Formation Disaster) হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। সাংবিধানিক মারপ্যাঁচে আটকে গিয়েছে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ। ফলে আগামী সোমবার বা মঙ্গলবারের আগে নতুন মন্ত্রীসভা গঠনের সম্ভাবনা নেই।
ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টরি ও বর্তমান চিত্র
বৃহস্পতিবার ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণের পর শুক্রবার ঘোষিত ফলে দেখা গিয়েছে, বিএনপি জোট ২১২টি আসনে জয়ী হয়েছে। শরিক দল জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্যরা মিলে পেয়েছে ৭৭টি আসন। ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফল ঘোষিত হলেও আইনি জটিলতায় দুটি আসনের ফল আটকে আছে। তবে বিপুল জনমত নিয়ে জয়ী হলেও গেজেট প্রকাশ ও শপথ গ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছে আইনি ধোঁয়াশা।
কেন এই বিলম্ব?
বাংলাদেশের (Bangladesh) সংবিধান অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান জাতীয় সংসদের স্পিকার বা তাঁর মনোনীত কেই। কিন্তু ৫ অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করে আত্মগোপনে রয়েছেন। তিনি কাউকে শপথ করানোর জন্য মনোনীতও করে যাননি। অন্যদিকে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বর্তমানে জেলবন্দি। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, নতুন স্পিকার দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত পুরোনো স্পিকারই পদে বহাল থাকেন, কিন্তু তাঁর অনুপস্থিতিতে কে শপথ পড়াবেন—তা নিয়েই তৈরি হয়েছে জটিলতা।
সংবিধানের বিকল্প পথ
সংবিধানে উল্লেখ আছে, স্পিকার বা তাঁর মনোনীত ব্যক্তি যদি ফল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে শপথ পাঠ করাতে ব্যর্থ হন, তবে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে সেই দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC)। এক্ষেত্রে সরকারি গেজেট প্রকাশের পর অন্তত তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসিরউদ্দীনই সম্ভবত সোমবার বা মঙ্গলবার বিজয়ীদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।
নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া চলছে। অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও আলোচনা করছে যাতে কোনো আইনি ফাঁক না থাকে। ফলে রাজপথে বিএনপির বিজয়োল্লাস চললেও আনুষ্ঠানিক সরকার গঠনের জন্য দেশবাসীকে আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
