Bangladesh | হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত বাংলাদেশ! দফায় দফায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষ, জখম পুলিশ কর্মী  

Bangladesh | হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত বাংলাদেশ! দফায় দফায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষ, জখম পুলিশ কর্মী  

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: চার মাসের ওপরে শেখ হাসিনার মামলার শুনানি চলার পর অবশেষে সোমবার রায় ঘোষনা করেছে বাংলাদেশের (Bangladesh) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। রায়ে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) ও তাঁর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ফাঁসির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড।

তারপর থেকে দফায় দফায় উত্তেজনা চলছে বাংলাদেশে। বিভিন্ন জায়গায় গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। ঢাকা এবং বড়িশালে দু’জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সুত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার পল্লবী থানা এলাকায় বিএনপির যুব শাখা যুব দল-এর এক কর্মীকে গুলি করে খুনের অভিযোগ উঠেছে। হেলমেটে মুখ ঢাকা তিন অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী তাঁর উপর হামলা করে। এরপর ওই দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যাবার সময় এলাকার এক অটোচালককে গুলি করে।

আবার আদালতে হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর মিষ্টি বিলিকে কেন্দ্র করে বরিশালে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে মৃত্যু হয় বিএনপির ছাত্র শাখা ছাত্রদলের এক কর্মীর।

সোমবার হাসিনার সাজাঘোষণাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত আটটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গিয়েছে। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে দু’টি স্কুলভবনেও। ভারতীয় সময় রাত আড়াইটে নাগাদ নেত্রকোনায় দু’টি স্কুলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। বড় সড় দুর্ঘটনার আগে একটি স্কুলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। অন্য আরেকটিতে তিনটি শ্রেণিকক্ষ সহ শিক্ষকদের বসার ঘর পুড়ে গিয়েছে বলে খবর।

রায় ঘোষণার আগেই সোমবার সকাল থেকেই বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর পাওয়া যাচ্ছিল। চট্টগ্রামে একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ঢাকাতেই অন্তত ছ’টি বাসে অগ্নিসংযোগের খবর মিলেছে। বিকেলের দিকে ঢাকার উত্তরায় একটি মিনিবাসে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন উত্তেজিত জনতা। বাসটি আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সাংসদ হাবিব হাসানের ভাই নাদিম হাসানের বলে দাবি। এর পরে উত্তেজিত জনতা হাবিব এবং তাঁর ভাইয়ের বাড়িতেও চড়াও হতে যান। তবে পুলিশ তাঁদের সেখান থেকে হটিয়ে দিয়েছে।

এদিকে ভারতীয় সময় সোমবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ গোপালগঞ্জের এক থানায় ককটেল বোমা হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। এতে তিন পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন।

হাসিনার রায় ঘোষণার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল পড়ুয়া ধানমন্ডি ৩২-এ তে বুলডোজ়ার নিয়ে পৌঁছে যায়। সেখানে শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত বাড়ির বাকি অংশ গুঁড়িয়ে দেওয়াই উদ্দেশ্য ছিল তাঁদের। তাঁদের ঠেকাতে মোতায়েন করা হয় পুলিশ। নামানো হয় সেনাও। বাধা পেয়ে পুলিশ এবং সেনাকর্মীদের লক্ষ্য করে ইট ছুড়তে শুরু করেন বিক্ষুব্ধরা। পালটা লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এমনকী পরিস্থিতি সামাল দিতে ধানমন্ডি ৩২-এর সামনে ফাটানো হয় সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাসের শেলও। তাতেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। বিকেলের দিকে নামানো হয় সেদেশের আধাসেনা। রাতেও নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ান বিক্ষোভকারীরা।

এরপর ভারতীয় সময় রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ ঢাকা পুলিশের ধানমন্ডি এলাকার অতিরিক্ত উপকমিশনার জিসানুল হক সেদেশের সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিক্ষোভকারীদের ওই চত্বর থেকে সম্পূর্ণ ভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *