উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ বাংলাদেশের (Bangladesh) রংপুরে এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক সহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। বাড়ির ছাদে বসে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতরা হলেন রংপুর (Rangpur) জেলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), তাঁদের মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৩) এবং ১২ বছরের ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী।
বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, যৌথ তদন্তকারী দল—রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (CID) এবং গোয়েন্দা শাখা (DB)-র যৌথ অভিযানের পর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য ভেদ হয়েছে। পুলিশ সূত্রে প্রকাশ, অভিযুক্ত দুই দুষ্কৃতী ঘটনার দিন বাড়ির ছাদে ‘ইয়াবা’ (Yaba) নামক মাদক সেবন করছিল। বিষয়টি টের পেয়ে ওই শিক্ষক ও তাঁর পরিবার প্রতিবাদ জানালে তাদের ওপর আক্রমণ চালানো হয়।
সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, চারজনকে খুন করার পরও অভিযুক্তরা বেশ কয়েক ঘণ্টা ওই বাড়িতেই অবস্থান করে। অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় তারা ফ্রিজ থেকে খেজুর ও শসা বের করে খায় এবং পরে স্নান করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ নামের দুই তরুণকে (সম্পর্কে তারা একে অপরের খুরতুতো ভাই) গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত পরিবারটির সঙ্গে স্থানীয় স্তরে বা অন্য কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা বা পূর্ববিবাদ ছিল না। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

