উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করে দিলেন রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদের নির্বাচন এবং ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে গণভোটের পর্ব মিটলেই তিনি তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন। রয়টার্স সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে সাহাবুদ্দিন তাঁর এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে “অপমানিত হওয়া”-কে তুলে ধরেছেন।
৭৫ বছর বয়সী মহম্মদ সাহাবুদ্দিন, যিনি ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি পদে শপথ নিয়েছিলেন, তাঁর মেয়াদের মাঝপথেই সরে যাওয়ার বার্তা দেওয়ায় জল্পনা আরও বেড়েছে। তিনি সরাসরি জানিয়েছেন, “আমি অপমানিত হচ্ছি। তাই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তবে ঠিক কী কারণে তিনি অপমানিত বোধ করছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি আওয়ামী লীগের এই প্রাক্তন নেতা।
এই ঘোষণার সময়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসিরউদ্দিন ঘোষণা করেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একযোগে জাতীয় সংসদের নির্বাচন এবং জুলাই সনদ সংক্রান্ত গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর ঠিক পরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বার্তা সামনে আসে। রাষ্ট্রপতির এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হওয়ার জল্পনা কাজ করছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশে গুঞ্জন চলছে যে, ইউনূস রাষ্ট্রপতি পদে বসতে আগ্রহী। কিন্তু আইনসভাকে এড়িয়ে যদি ইউনূস রাষ্ট্রপতি হন, তবে সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সেই সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে ইউনূসের রাষ্ট্রপতি পদ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
উল্লেখ্য, গত বছর ৫ অগাস্ট গণবিক্ষোভের মুখে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ভারতে চলে যাওয়ার পর, সাহাবুদ্দিনই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছিলেন। ইউনূসের সুপারিশেই জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়।
কার্যত, সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনই বর্তমানে বাংলাদেশের একমাত্র সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে রয়েছেন। যদিও পদাধিকার বলে তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক, তবে রাষ্ট্রপতির পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক। দেশের কার্যনির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতেই থাকে।
এখন দেখার বিষয়, নির্বাচনের পরে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজনীতিকে কোন নতুন দিকে চালিত করে এবং মুহাম্মদ ইউনূসের রাষ্ট্রপতি হওয়ার জল্পনা কোন দিকে মোড় নেয়।
