উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman) দেশে ফিরতেই বাংলাদেশের (Bangladesh) রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিএনপি-র ক্রমবর্ধমান জনসমর্থন এবং তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে ‘চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে নিয়ে আসন সমঝোতার আলোচনায় বসল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাংশের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) (NCP) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি।
আসন ভাগাভাগির অঙ্ক: জামাতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বৃহস্পতিবার রাতে নিশ্চিত করেছেন যে, এনসিপি-র সঙ্গে তাঁদের নির্বাচনি আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে। সূত্রের খবর, ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে জামাতের কাছে ৫০টি আসনের দাবি জানিয়েছে এনসিপি। এনসিপি-র নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারি এবং জামাতের আবদুল্লা মহম্মদ তাহের এই রফাসূত্র চূড়ান্ত করার দায়িত্ব পেয়েছেন।
তারেক ফ্যাক্টর ও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা: গত ৫ অগাস্টের ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই বিভিন্ন ইস্যুতে জামাত ও এনসিপি-র মধ্যে মতের মিল দেখা যাচ্ছিল। তবে ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর নিয়ে দুই দলের মধ্যে সাময়িক দূরত্ব তৈরি হয়। এনসিপি এককভাবে ৩০০ আসনে লড়ার কথা ঘোষণা করলেও, তারেক রহমানের ঝোড়ো প্রত্যাবর্তনে সেই সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হচ্ছে তারা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উজ্জীবিত বিএনপি-কে রুখতে এবং নির্বাচনি ময়দানে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই এই দুই ভিন্ন মেরুর শক্তি জোটবদ্ধ হওয়ার পথ বেছে নিয়েছে।
দলে ভাঙন ও অন্তঃকলহ: জামাতের সঙ্গে এই সখ্যতা এনসিপি-র অন্দরেও তৈরি করেছে ফাটল। ‘কট্টর জামাত বিরোধী’ হিসেবে পরিচিত এনসিপি-র অন্যতম প্রভাবশালী নেতা মীর আরশাদুল হক দলের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে পদত্যাগ করেছেন। তিনি দলটির যুগ্ম সদস্যসচিব ও চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী ছিলেন। আরশাদুলের পদত্যাগ এনসিপি-র ছাত্র-যুব সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে (Bangladesh Election) কেন্দ্র করে জোট-পাল্টা জোটের যে খেলা শুরু হয়েছে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন তাতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
