উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ চরম আইনি টানাপোড়েনের পর অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ বন্দি সঞ্জয় কুমারের (Bandi Sanjay Kumar) ছেলে বন্দি ভাগীরথ সাই (Bandi Bhageerath Sai)। এক ১৭ বছর বয়সী নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন ও হেনস্থার অভিযোগে ২৫ বছর বয়সী ভাগীরথের বিরুদ্ধে কঠোর ‘পকসো’ (POCSO) আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছিল। শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত চলা শুনানিতে তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট তাঁকে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন আইনি সুরক্ষা বা রক্ষাকবচ দিতে অস্বীকার করার পরেই এই গ্রেপ্তারি নিশ্চিত হয়।
ছেলের আইনি রক্ষাকবচ খারিজ হতেই শনিবার বড় পদক্ষেপ নেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। আইনজীবীদের মাধ্যমে নিজেই ছেলেকে পুলিশের তদন্তকারী দলের হাতে তুলে দেন তিনি।
শুক্রবার বিচারপতি টি মাধবী দেবীর (T Madhavi Devi) এজলাসে প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত চলে এই মামলার শুনানি। ভাগীরথের আইনজীবীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অভিযোগকারিণী নাবালিকার মায়ের বয়ান অনুযায়ী গত বছর থেকেই দুজনের মধ্যে একটি স্বাভাবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। তাই এটি কোনো অপরাধের পর্যায় পড়ে না। তবে নাবালিকার পক্ষের আইনজীবী এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করে জামিন খারিজের আর্জি জানান। দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে আদালত এই মুহূর্তে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ বা স্বস্তি দিতে নারাজ বলে জানিয়ে দেয়।
আদালতের গ্রিন সিগন্যাল না মিলতেই সমাজমাধ্যম এক্স-এ (X) একটি পোস্ট করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি লেখেন: “আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে জানাচ্ছি, আজ আমার ছেলে বন্দি ভাগীরথ আমাদের আইনজীবীদের মাধ্যমে তেলেঙ্গানা পুলিশের কাছে তদন্তের মুখোমুখি হতে গিয়েছে। আমি আগেও বলেছি, আমার নিজের ছেলেই হোক বা কোনো সাধারণ নাগরিক—আইনের চোখে সবাই সমান। বিচার পেতে দেরি হতে পারে, কিন্তু তা অস্বীকার করা যায় না।”
মন্ত্রী আরও জানান, তাঁর ছেলে কোনো ভুল করেনি বলে দাবি করেছে এবং তারা তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।আইনি জটিলতার মাঝেই এই মামলাটিকে সম্পূর্ণ চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত ভাগীরথ সাই। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, এটি একটি সুপরিকল্পিত ‘হানি-ট্র্যাপ’ এবং তাঁর থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা মাত্র। ভাগীরথ জানান, ওই নাবালিকা ও তার পরিবার তাঁকে বিয়ে করার জন্য মানসিক চাপ সৃষ্টি করছিল এবং ৫ কোটি টাকা না দিলে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিল, যা নিয়ে তিনি আগেই পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বন্দি সঞ্জয় কুমারও এই অভিযোগকে বিরোধীদের “মিথ্যা অপপ্রচার” বলে দাবি করেছেন। তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ছেলের এই পকসো মামলায় গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে তেলঙ্গানা সহ জাতীয় রাজনীতিতে তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে।
