বালুরঘাট: বালুরঘাটের (Balurghat) শিশুদের মুখে হাসি ফুটছে রাজস্থানের (Rajasthan) বেলুন পুতুলে। বালুরঘাটের রাস্তায় দেখা মিলছে রাজস্থান থেকে ফেরি করতে আসা এই পুতুল বিক্রেতাদের। দুপুরের পর থেকে তাঁরা শহরের বিভিন্ন জনবহুল রাস্তায় ভিড় জমাচ্ছেন। বাবা-মায়ের সঙ্গে বাইরে ঘুরতে বেরিয়ে হাসিমুখে সেই বেলুন পুতুল কিনে ঘরে ফিরছে শিশুরা। মাত্র ৫০ টাকা দাম হওয়ায় অভিভাবকরাও খুশি। সন্তানদের কিনে দিচ্ছেন সেই বড় মাপের বেলুন পুতুল। পরিবার সহ এসে রাজস্থানিরা ছোটদের এই বেলুন পুতুল বিক্রি করছেন। দুর্গাপুজো (Durga Puja) পার করে ফিরবেন তাঁরা।
দেশের একেবারে পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত মরুভূমির রাজ্য রাজস্থান। সুদূর সেই রাজ্য থেকে এসে বাচ্চাদের মনোরঞ্জনের জন্য হাওয়া ভর্তি পুতুল ফেরি করছেন এই বিক্রেতারা। প্রায় চারটি পরিবার সহ রাজস্থান থেকে শহরে আসা এই ব্যবসায়ীরা বাঁশের ডগায় পুতুল বেঁধে বিক্রি করছেন। যেখানে শিশুদের জনপ্রিয় চরিত্র ডোরেমন, এরোপ্লেন, ঘোড়া, কুকুর, সূর্য, ফুল সহ একাধিক নকশার পুতুল রয়েছে। যা বালুরঘাটের বাজারে সচরাচর দেখা যায় না। যার ফলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দেদার বিক্রি হচ্ছে এই বেলুন পুতুল। ছোট থেকে বড় সকলেই বিরাট মাপের এই পুতুল দেখে কিছু সময়ের জন্য থমকে দাঁড়াচ্ছেন। অনেকেই শিশুদের অনুপস্থিতিতেই রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে এই বেলুন পুতুল কিনে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন। তুলনামূলক কম দামে এই পুতুলগুলি বিক্রি হওয়ায় ক্রেতারা নিজেদের খুশির কথা জানিয়েছেন। আবার দিনে প্রায় ২০টি পুতুল বিক্রি হওয়ায় হাসি ফুটেছে রাজস্থান থেকে আসা ওই ব্যবসায়ীদের মুখেও।
পুতুল ব্যবসায়ী কেশর সিং বলেন, ‘নিজেদের রাজ্য থেকে বেরিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরে ঘুরে এই পুতুল বিক্রি করছি। পুজোর মরশুমে পশ্চিমবঙ্গে এসেছি। দুর্গাপুজো হয়ে গেলে চলে যাব। কালীপুজোতে শিলিগুড়ি হয়ে উত্তরবঙ্গের বাকি জেলায় ঢুকব।’ বালুরঘাটে মানুষ ৫০ টাকা শুনে আর দামদর করছেন না। বাচ্চারাও এই পুতুলের প্রতি যথেষ্ট আকৃষ্ট। তাঁদের স্টক শেষ হলে তারপর পরিবারের কাছে ফিরবেন বলে তিনি জানান।
মঙ্গলপুর এলাকার শিক্ষক অনিল কর্মকার বলেন, ‘রাস্তায় গাড়িতে থাকাকালীন গত কয়েকদিন ধরেই ওই বেলুন পুতুল ব্যবসায়ীদের দেখছিলাম। কিন্তু কেনার উপায় ছিল না। দু-দিন আগে থানা মোড় এলাকায় ওঁদের দেখি। ছোট ছেলের জন্য তাঁদের কাছ থেকে দুটি বেলুন পুতুল নিয়েছি।’

