সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট : বাড়তি রোজগারের আশায় বোল্লার (BOLLA) মেলায় খাগড়া বাতাসার দোকান দিয়েছেন অরূপ কুণ্ডু। গত দু’দিন ধরেই অরূপ ওই দোকান নিয়ে ব্যস্ত। তাই তাঁকে সাহায্য করতে স্ত্রী ও ছেলে শুক্রবার দুপুরে ডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের বড় রঘুনাথপুরে বাড়িতে তালা দিয়ে সেখানে চলে আসেন। তবে কে জানত রোজগার করতে এসে এমন ঘটনা ঘটবে। বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে সবকিছু নিয়ে চম্পট দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। সোনার গয়না থেকে শুরু করে নগদ মিলিয়ে প্রায় কয়েক লক্ষ টাকার জিনিস চুরি গিয়েছে বলে দাবি অরূপের স্ত্রী মাধবীর।
শনিবার সকালে প্রতিবেশীদের কাছে ওই চুরির খবর পেয়ে মেলা থেকে ছুটে বাড়ি আসেন মাধবী ও তাঁর ছেলে। চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বালুরঘাট থানায় (BALURGHAT POLICE STATION) লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মাধবী। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, চুরির ঘটনাটি পরিকল্পিত। দুষ্কৃতীরা আগে থেকেই বাড়িটিতে নজরে রেখেছিল। যদিও দুর্গাপুজোর পর থেকে বালুরঘাট শহর ও শহরতলিতে একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। তাই নতুন করে ওই চুরির রহস্যের উদ্ঘাটন পুলিশ করতে পারে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এদিন দুপুরে বালুরঘাট থানার এসআই গৌতম হাজরার নেতৃত্বে পুলিশ ওই চুরির তদন্ত করতে যায়।
বড় রঘুনাথপুর বিএম হাইস্কুলপাড়া এলাকার অরূপ নিজের বাড়িতেই মুদির দোকান চালান। গত বুধবার থেকে তিনি বোল্লামেলাতে দোকানের প্রস্তুতি নিতে সেখানেই রয়েছেন। শুক্রবার রাতে ছিল বোল্লাপুজো। তাই তার আগেই দুপুরবেলা বাড়িতে তালা দিয়ে ছেলেকে নিয়ে মাধবী দোকানে সাহায্যের জন্য চলে আসেন।
মেলার কয়েকদিন তাঁরা সেখানেই থাকবেন বলে ঠিক ছিল। তবে সব পরিকল্পনায় জল ঢালল দুষ্কৃতীরা। এদিন সকালে মাধবী তাঁর প্রতিবেশী পায়েল কুণ্ডুকে ফোন করে বাড়ির অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বাড়িতে যান। তখনই চুরির বিষয়টি নজরে পড়ে তাঁর। মাধবী বলেন, ‘সীমানা প্রাচীর টপকে ভিতরে প্রবেশ করে দুষ্কৃতীরা। এরপর গ্রিলের ও দরজার তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে আলমারি ভাঙে দুষ্কৃতীরা। গোটা ঘর তছনছ করে। সবকিছু চুরি হয়ে গিয়েছে। পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছি। আশা করি অপরাধীরা ধরা পড়বে।’
ওই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এলাকার বাসিন্দা পায়েলের কথায়, ‘আমাদের পাড়াটি জাতীয় সড়ক থেকে একটু ভেতরে হওয়ায় এই পাড়ায় সবাই সবাইকে চেনে। এ পাড়ায় চুরির ঘটনা প্রায় ঘটেই না। কিন্তু এই ঘটনায় আমরা সকলে আতঙ্কে আছি।’
