পঙ্কজ মহন্ত, বালুরঘাট: বিধানসভা ভোটের আগে শহরের নাট্যকর্মীদের ক্ষোভ প্রশমনে উদ্যোগী হল বালুরঘাট পুরসভা। ফুড প্লাজা জোনে নাট্য সংবাদ কক্ষ তৈরিকে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্কের পর রবিবার শহরের বিভিন্ন নাট্য সংস্থাকে নিয়ে বৈঠকে বসল পুর কর্তৃপক্ষ। নাট্যকর্মীদের পরামর্শ অনুযায়ীই কোথায় সেই কক্ষ তৈরি হবে, তা ঠিক করার কথা জানাল পুরসভা।
রবিবার পুরসভার সুবর্ণতট সভাকক্ষে বালুরঘাটের বিভিন্ন নাট্যসংস্থাকে চিঠি দিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ফুড প্লাজা জোনে ওই কক্ষ তৈরির ঘোষণা করেছিলেন পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান অশোক মিত্র। কিন্তু অনাস্থা প্রস্তাব ও তাঁর ইস্তফার পরে বর্তমান চেয়ারম্যান সুরজিৎ সাহা জানিয়েছিলেন, সেখানে শুধু খাবারের দোকানই রাখা হবে। সেই সিদ্ধান্তে বালুরঘাটের নাট্যকর্মীদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। পুরসভার বিওসি বৈঠকে ওই কক্ষ পাশ হলেও পরে বাতিলের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তাঁরা। অবশেষে সেই পরিস্থিতিতে নাট্যকর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় বসল পুরসভা।
অন্যদিকে পূর্বতন চেয়ারম্যানের আমলে প্রয়াত হরিমাধব মুখোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত একটি মুক্তমঞ্চ তৈরি হয়েছিল। সেটিও এতদিন উদ্বোধনের অপেক্ষায় ছিল। এদিন বৈঠকে তার উদ্বোধনের দিনক্ষণ নিয়েও আলোচনা হয়। প্রাথমিক ভাবে ঠিক হয়েছে, আগামী ২৭ মার্চ বিশ্ব নাট্য দিবসের দিন ওই মুক্তমঞ্চ উদ্বোধন করা হতে পারে। ভোটের মুখে এই উদ্যোগের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে বলে মত অনেকেরই। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব ও বালুরঘাটের প্রাক্তন সাংসদ অর্পিতা ঘোষ। নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি একাধিক পরামর্শ দেন। পাশাপাশি শহরে নাটকের ব্যানার খুলে দেওয়া নিয়ে নাট্যকর্মীদের অভিযোগে উষ্মা প্রকাশ করেন।
নাট্যকর্মী মনোজ গাঙ্গুলী বলেন, ‘এর আগে বিভিন্ন নাট্যদলের নাটকের ব্যানার পুরসভা খুলে নিয়েছিল। আমরা জিজ্ঞেস করাতে বলা হয়েছিল অনুমতি নেওয়া হয়নি। বিষয়টি আলোচনায় তুলেছি। নির্দিষ্ট জায়গা দেওয়ার আশ্বাস মিলেছে।’ অর্পিতা ঘোষ জানান, তিনি হরিমাধব মুক্তমঞ্চ পরিদর্শন করেছেন। সেখানে মঞ্চ নির্মাণে কিছু কৌশলগত ত্রুটি তাঁর নজরে পড়েছে। তাঁর কথায়, ‘আলোর ব্যবহার করতে সেখানে সমস্যা হতে পারে। যদিও এখন আর তেমন কিছু করার নেই। তবে বালুরঘাটে নাটকের স্বার্থে সকল নাট্যকর্মীদের সঙ্গে মত বিনিময় করতেই এই আলোচনা।’ পাশাপাশি তিনি বলেন, কলকাতায় নাটকের ব্যানার লাগানোর জন্য অনুমতি নিতে হয় না।
কোথায় নাট্য সংবাদ কক্ষ হলে ভাল হবে, সে বিষয়ে নাট্যকর্মীরাও মত দেন। কথক নাট্য বিদ্যালয়ের কর্ণধার তুহিনশুভ্র মন্ডল বলেন, ‘ফুড প্লাজা জোনে বালুরঘাট মিউজিয়ামের উল্টো পাশে ওই কক্ষ হলে ভাল হয়। জায়গাটি বেশ জনবহুল। তাই সেখানে হলে বেশি মানুষের নজরে আসবে।’ প্রবীণ নাট্যকর্মী অজিতকুমার মহন্তও বলেন, ‘যেখানে লোকসমাগম বেশি সেখানেই সে কক্ষ হওয়া উচিত। তাহলেই কোথায়, কোন নাটক কবে হবে সকলের নজরে আসবে।’ বৈঠকে উপস্থিত না থাকলেও পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমির জেলার একমাত্র সদস্য সুরজিৎ ঘোষ জানান, কিছু কাজে কলকাতায় থাকায় তিনি আসতে পারেননি। তবে আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন।
বৈঠক শেষে পুরসভার চেয়ারম্যান সুরজিৎ সাহা বলেন, ‘বালুরঘাটে দু’তিনটি নির্দিষ্ট জায়গা নাটকের ব্যানার লাগানোর জন্য নির্ধারণ করা হবে। নাট্যকর্মীদের দাবি মতো উপযুক্ত জায়গা বেছে নাট্য সংবাদ কক্ষ হবে। সেখানে টিকিট বিক্রি, নাট্য আলোচনা ও নাটকের বই বিক্রির ব্যবস্থাও থাকবে।’ ভোটের মুখে নাট্যকর্মীদের সঙ্গে বসার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই বৈঠকের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। দ্রুত হরিমাধব মুক্তমঞ্চের উদ্বোধনও করা হবে।
