Balurghat | গ্রামের বাড়ি পছন্দ নয়, হাসপাতালে সময় কাটান তরুণী

Balurghat | গ্রামের বাড়ি পছন্দ নয়, হাসপাতালে সময় কাটান তরুণী

ব্লগ/BLOG
Spread the love


সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট: বালুরঘাটে (Balurghat) পড়তে এসে গায়ে লেগে গিয়েছে ‘শহরের হাওয়া’। গ্রামের বাড়িতে তাই আর মন টেকে না তরুণীর। বাবা-মা পরিযায়ী শ্রমিক। অভিভাবক দাদু-দিদিমাও কর্মসূত্রে দিনভর বাড়ির বাইরেই থাকেন। এক বাড়িতে থাকতে মন চায় না। তাই পতিরামের বাড়ি থেকে সেই তরুণী বেরিয়ে মাঝেমধ্যেই চলে আসেন শহরে। কিন্তু হাতে নেই টাকাপয়সা, নেই সঙ্গীসাথী। এদিক-ওদিক ঘুরে আশ্রয় নেন বালুরঘাট সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে।

এদিকে ভবঘুরের মতো অমন ১৭-১৮ বছর বয়সি এক তরুণীকে প্রতিদিন হাসপাতাল চত্বরে দেখে সন্দেহ হয় কিছু রোগীর পরিবারের। কয়েকদিন ধরে বিচ্ছিন্নভাবে অনেকে তাঁকে খাবার ও বাড়ি ফেরার টাকাও দেন। কিন্তু প্রায় প্রতিদিন রাতে বাড়ি ফেরার সময় বাড়ি ফেরার ভাড়া চেয়ে বসায় সকলের নজর পড়ে তাঁর দিকে। তখন তাঁরা আলোচনা করে বুঝতে পারেন, ওই তরুণী প্রতিদিনই হাসপাতালে এসে সময় কাটান। আর তাই কয়েকজন রোগীর পরিবার নিরাপত্তার আশঙ্কা করে ওই তরুণীকে নিয়ে সোজা বালুরঘাট থানায় হাজির হয়। পুলিশ ওই তরুণীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে। তবে ওই তরুণীর কথাবার্তায় অসংলগ্নতা দেখে মানসিক সমস্যা রয়েছে বলে দাবি করছেন রোগীর পরিজনরা।

ওই তরুণী অবশ্য বলছেন, ‘আমার বাবা-মা বাইরে থাকেন। দাদু-দিদাও বাড়িতে থাকেন না। আমার পতিরামের গ্রামের বাড়িতে থাকতে কিছুতেই মন চায় না। শহরটা দেখতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। শহরের মানুষ দেখতে আমি বালুরঘাটে আসি প্রতিদিন, রাতে বাড়ি ফিরে যাই।’ তাঁর কথায়, ‘আমার কাছে মাত্র পাঁচ টাকা রয়েছে। শহরের কোনও দোকানে বা পার্কে ঢুকতে পারি না। তাই হাসপাতালে বসে থাকি। ওরা সেই কথা না বুঝেই আমাকে থানায় ধরে নিয়ে এসেছে। পাগল বলছে।’

বালুরঘাট জেলা সদর ও জেলা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ পরিষেবা নিতে আসেন। প্রচুর রোগী ভর্তিও থাকে হাসপাতালে। আর এই ক্যাম্পাসে থাকা একাধিক আশ্রয়স্থলের পাশাপাশি বিভিন্ন গাছতলা বা শেডের নীচে প্রচুর মানুষকে বসে থাকতে দেখা যায়। এমনভাবেই এক তরুণীকে বেশ কয়েকদিন ধরেই একাকী বসে থাকতে বা ঘুরে বেড়াতে দেখে সন্দেহ হয়েছে কিছু রোগীর পরিবারের।

ওই তরুণীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁর এই হাসপাতালে এসে বসে থাকার কারণ নিয়ে সন্দেহ হয় কয়েকজন রোগীর পরিজনের। আর তাই ওই তরুণীর নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা থেকে তাঁরা তাঁকে সোজা বালুরঘাট থানায় নিয়ে যান।

যেমন কুমারগঞ্জের তারাজপুরের বাসিন্দা দিবিশ্বর হেমব্রম বলেন, ‘আমার স্ত্রী ভর্তি আছে হাসপাতালে। তাই আমি সারাদিনই হাসপাতালেই থাকছি। ওই মেয়েটিকেও সারাদিন চুপচাপ বসে থাকতে দেখি। গতকাল সন্ধ্যায় ওই মেয়েটি বাড়ি যাবে বলে আমার কাছে পয়সা নিয়েছে। আমাকে বলেছিল ওর কেউ ভর্তি আছে। তাই ও হাসপাতালে এসেছিল। বাড়ি যাওয়ার পয়সা নেই। আজ আবার ওকে হাসপাতালে দেখি।’

আরেক রোগীর আত্মীয় লক্ষ্মী মার্ডির কথায়, ‘আমি তিন-চারদিন ধরে ওই মেয়েটিকে দেখছি। খাবারও দিচ্ছি। কিন্তু মেয়েটা অনেক মিথ্যা কথা বলেছে। আমরা হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে দেখেছি ওর কেউ ভর্তি নেই। ও যে হস্টেলে ছিল সেখানেও বর্তমানে থাকা মেয়েরা কেউই চিনতে পারেনি ওকে। তাই বাধ্য হয়ে থানার হাতে তুলে দিলাম। ওর কথা শুনে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হচ্ছে।’ হাসপাতাল সুপার কৃষ্ণেন্দু বিকাশ বাগ অবশ্য এসব কিছুই জানেন না। তিনি বলেন, ‘এমন ঘটনার কথা আমাকে কেউ জানায়নি।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *