Balurghat | আত্রেয়ী শুকিয়েছে, ভরসা কেনা জল! বালুরঘাটে কি এবার মিটবে ‘তৃষ্ণা’? পুরসভার নতুন প্রকল্পে সংশয়ে শহরবাসী

Balurghat | আত্রেয়ী শুকিয়েছে, ভরসা কেনা জল! বালুরঘাটে কি এবার মিটবে ‘তৃষ্ণা’? পুরসভার নতুন প্রকল্পে সংশয়ে শহরবাসী

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট: শিয়ালের সেই কুমিরছানা দেখানোর কথা মনে আছে? বালুরঘাট (Balurghat) শহরের বাড়ি বাড়ি পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া, পুর কর্তৃপক্ষের কাছে যেন সেই কুমিরছানা। আত্রেয়ী নদী থেকে জল তুলে তা পরিশোধন করে বাড়ি বাড়ি পাঠায় পুরসভা। সেই জল মুখে তোলেন না নাগরিকরা। মাটির তলার জলও পানের অযোগ্য। আর এখন তো আত্রেয়ী (Atreyee River) ও মাটির তলার জল, দুই-ই শুকিয়েছে। অগত্যা নাগরিকদের ভরসা জল কিনে পান করা। অথচ বালুরঘাট পুরসভা (Balurghat Municipality) কিন্তু চাইলেই পারে নাগরিকদের ‘তৃষ্ণা’ মেটাতে।

প্রাক্তন চেয়ারম্যান হোন বা নতুন- দুজনেই তাই পানীয় জল পরিষেবার আশ্বাস দেন নাগরিকদের। আর ভোট এলেই এসব আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতির বহর বাড়ে। গত লোকসভা নির্বাচনের আগে তৎকালীন চেয়ারম্যান শহরে বটলিং প্ল্যান্ট গড়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন। জমি চিহ্নিত করাও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পুর উদাসীনতায় সেটা আর বাস্তবায়িত হয়নি। এবারে বিধানসভা নির্বাচনের আগে সুরজিৎ সাহার নেতৃত্বে থাকা পুর বোর্ড পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দিতে ওয়াটার এটিএম তৈরির ভাবনা নিয়েছে। সুরজিৎ জানালেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পয়েন্ট করে সেখান থেকে জল দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন তাঁরা। শহরবাসীকে সস্তায় পরিস্রুত জল দিতে ইতিমধ্যেই বোর্ড অফ কাউন্সিলার্স বৈঠকে সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। শহরে যেভাবে জলসংকট বাড়ছে, তাতে বোতলে বা ড্রামে ভরে জল সরবরাহের উদ্যোগ পুরসভা নিলে সেটা কার্যত পুর সাফল্যে নয়া পালক জুড়বে, তেমনি আয়ও বাড়বে পুরসভারও। কিন্তু শহরবাসী সন্দিহান। কারণ এর আগেও একবার এমন উদ্যোগ নিয়ে অনেকটা এগিয়েও, তা আর বাস্তবায়িত হয়নি।

বালুরঘাট পুরসভার ২৫টি ওয়ার্ডে প্রায় ২৩ হাজার পরিবার রয়েছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে দু’বেলা বাড়ি বাড়ি পানীয় জল সরবরাহ এখনও পর্যন্ত গিয়েছে প্রায় ১৪ হাজার বাড়িতে। চকভৃগুর তিনটি ওয়ার্ডের বাড়িতে জল দিতে, ইতিমধ্যেই রাজ্যের কাছে টাকা চেয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। সেই বরাদ্দ কবে আসবে সেটা জানা নেই। এদিকে, এখনও ১০০ শতাংশ বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে দিতে পারেনি পুরসভা। তার ওপরে আত্রেয়ীর জলস্তর নেমে যাওয়ায় ওই প্রকল্প চালু রাখা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। এই অবস্থায় শহরে জলের জোগান দিতে বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবছে পুরসভা। শহরে ওয়াটার প্ল্যান্ট গড়ে তোলার কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রতিদিন কয়েক হাজার বোতল পরিস্রুত জলের ব্যবস্থা করা হবে। ২৫০, ৫০০ মিলিলিটার, এক ও দুই লিটার এবং ২০ লিটার জারে বাজারের থেকে কমদামে নামী কোম্পানির সমতুল্য সেই পরিস্রুত জল বিক্রি করা হবে।

পুরসভার চেয়ারম্যান সুরজিৎ সাহার দাবি, ‘আগে কেন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি, জানা নেই। তবে বাড়ি বাড়ি পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্প থাকার পরও অনেকেই বাজার থেকে জল কিনে নেন। উৎসব অনুষ্ঠানেও বোতল বা ড্রামবন্দি জলের প্রয়োজন হয়। তাই আমরা ন্যূনতম দামে পরিস্রুত জল দিতে উদ্যোগ নিয়েছি।’ তিনি জানান, ওই প্ল্যান্টে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের কাজে লাগানো হবে।

যদিও পরিস্রুত জলের প্ল্যান্টের যৌক্তিকতা নিয়ে শহরবাসীর অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। স্বপ্না পাল বলেন, ‘এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। তাই অবশ্যই স্বাগত জানাব। কিন্তু শহরের অনেক বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছায়নি। বেশ কিছু এলাকায় বর্তমানে টাইমকলে সরু সুতোর মতো জল পড়ে। কোথাও জল এসেও অল্প সময়ের মধ্যে চলে যায়। তাই পরিস্রুত জল বিক্রির উদ্যোগের বদলে সকলের কাছে জল পৌঁছে দেওয়াটা অনেক বেশি জরুরি ছিল।’ যদিও চেয়ারম্যানের দাবি, চলতি বছরের মধ্যেই তাঁরা শহরের প্রতিটি বাড়িতে জল দিতে বদ্ধপরিকর।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *