উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বন্দুক হাতে এক তরুণীর চওড়া হাসি, আর সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে ছিল বিধ্বংসী বিস্ফোরণের পরিকল্পনা। পাকিস্তানের অশান্ত প্রদেশ বেলুচিস্তানে (Balochistan Disaster) গত কয়েক দিনে যে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়ে গেল, তার কেন্দ্রবিন্দুতে এবার উঠে এসেছে নারী যোদ্ধাদের নাম। নিষিদ্ধ সংগঠন ‘বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি’ (BLA)-র Majeed Brigade-এর দুই নারী আত্মঘাতী বোমারুর আক্রমণে কেঁপে উঠেছে পাকিস্তানের সামরিক ও প্রশাসনিক স্তম্ভ।
নতুন রণকৌশল: ‘ফিদায়েঁ’ যখন নারীরা
বিএলএ-র পক্ষ থেকে আসিফা মেঙ্গাল (২৪) নামে এক তরুণীর ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, যে নুশকিতে আইএসআই (ISI) সদর দপ্তরে আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে। গত জানুয়ারিতে সে ‘ফিদায়েঁ’ হওয়ার শপথ নেয়। অন্য এক ভিডিওতে দেখা গেছে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী যোদ্ধাকে, যে পাক সরকারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলছে, “শত্রুদের দিন ফুরিয়ে এসেছে।” এই প্রথম এত বড় মাপের সমন্বিত আক্রমণে নারীদের সম্মুখসমরে ব্যবহার করে বিএলএ তাদের রণকৌশলে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল।
অপারেশন হেরোফ ও সেনার প্রতিরোধ
বিএলএ এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন হেরোফ’(Operation Herof) বা ‘কৃষ্ণ ঝড়’। শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় প্রায় ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৭ জন নিরাপত্তা কর্মী। পালটা জবাবে পাক সেনাবাহিনী ৪০ ঘণ্টা ব্যাপী যুদ্ধ চালিয়ে প্রায় ১৪০ জন বিদ্রোহীকে খতম করেছে বলে দাবি করেছেন বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি।
নেপথ্যের কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি
প্রাকৃতিক সম্পদে ঠাসা কিন্তু চরম দরিদ্র এই প্রদেশে কয়েক দশক ধরে স্বাধীনতার লড়াই চলছে। এবার বিদ্রোহীরা ছদ্মবেশে স্কুল, হাসপাতাল ও বাজারে ঢুকে আক্রমণ চালিয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে আগে থেকে খবর থাকায় বড় কোনো শহর দখল করতে পারেনি বিদ্রোহীরা, তবে এই হামলা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারাটা আবারও সামনে এনে দিয়েছে।
