বক্সিরহাট: কয়েকদিন আগে পথ দুর্ঘটনায় আহত হলে বক্সিরহাট গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে নিয়ে যাওয়া হয় রামপুরের বাসিন্দা গোলার্ধ ঘোষকে। চিকিৎসা না করে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালের বেডে ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ। গোলার্ধ বলেন, ‘জ্ঞান ফেরার পর আমি জানতে পারি আমাকে তুফানগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।’ শুধু গোলার্ধ নন, বক্সিরহাটের অনেকেই এই ভোগান্তির শিকার। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের পরিষেবার মান তলানিতে এসে ঠেকেছে। রোগীদের ওই হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে নিয়ে গেলেই তাঁদের তুফানগঞ্জ মহকুমা হাসপাতাল বা কোচবিহার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করা হয় বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, এই হাসপাতালে ইসিজি অথবা এক্স-রে’র কোনও ব্যবস্থা নেই বলেও অভিযোগ। নেই কোনও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও।
এই প্রসঙ্গে বসিরহাট ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য আধিকারিক (বিএমওএইচ) মনোরঞ্জন দাস বলেন, ‘মেজর কোনও কেস ছাড়া রেফারের প্রশ্নই আসে না। গ্রামীণ হাসপাতাল যতটুকু পরিষেবা দেওয়া সম্ভব চিকিৎসকরা সেটা দেওয়ার চেষ্টা করে থাকেন। হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে আমার কাছে কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে এ কথা ঠিক। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাওয়া গেলেই এখানে নিযুক্ত করা হবে।’
বক্সিরহাটের বাসিন্দা নরেশ সাহার কথায়, ‘এই হাসপাতালে পরিকাঠামোর অবস্থা খুব খারাপ। পুরুষ ও মহিলা বিভাগ মিলিয়ে মাত্র ৩০টি বেড রয়েছে। আউটডোরের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সঠিক পরিষেবা পাওয়া যায় না। একবার প্রেশার বেড়ে যাওয়ায় পরিবার আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। জরুরি অবস্থা দেখেও চিকিৎসক তাঁর ঘরে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। পরে বাধ্য হয়ে আমাকে ওঁর রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক দূর থেকে দেখেই ব্যথার ওষুধ দিয়েছিলেন। পরে পরিবারের লোকজন আমাকে কোচবিহারের একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যান। নার্সিংহোমের চিকিৎসকরা বলেছিলেন, ভুল ওষুধের কারণে স্ট্রোক হওয়ার জোগাড় হয়ে গিয়েছিল।’
হাসপাতালে চিকিৎসক নিয়োগ এবং পরিকাঠামো উন্নত করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি করা হলেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এই বিষয়ে বিজেপির জেলা কমিটির সম্পাদক সুশান্ত রাভা বলেন, ‘এই হাসপাতালের পরিকাঠামোর বিষয়টি আমাদের বিধায়ক বিধানসভায় উত্থাপন করলেও রাজ্য সরকার কোনও পদক্ষেপ করেনি।’
তৃণমূলের জেলা পরিষদের সদস্য নিরঞ্জন সরকার বলেন, ‘হাসপাতালের পরিষেবা উন্নতির এই দাবি যথার্থ। বিষয়টি নিয়ে দলের নেতৃত্বর সঙ্গে কথা বলব।’
