কিশনগঞ্জ: রাতের অন্ধকারে নিষিদ্ধপল্লী থেকে পালিয়ে রক্ষা পেল এক নাবালিকা। শনিবার সকালে কিশনগঞ্জের বাহাদুরগঞ্জ থানা এলাকার একটি ধান খেত থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা। কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে নিষিদ্ধপল্লীতে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল বলে খবর। পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে পরিবারের লোকেদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে কিশনগঞ্জের প্রেমনগর যৌনপল্লী থেকে পালিয়ে যায় এক নাবালিকা। সে এলাকারই এক ধান খেতে লুকিয়ে ছিল। এদিন সকালে দারুল উলূম চকের পাশে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় মেয়েটিকে দেখতে পান স্থানীয়রা। এরপরেই তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া দেন স্থানীয়রা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নাবালিকার বাড়ি মধ্যপ্রদেশে। সে পটনার একটি শপিং মলে সেলস গার্লের কাজ করতেন। সেখানে তাঁর সঙ্গে অজ্ঞাত দুই মহিলার পরিচয় হয়। সম্প্রতি, মহিলারা মোটা মাইনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কিশনগঞ্জের প্রেমনগর যৌনপল্লীতে বিক্রি করে দেয় বলে অভিযোগ। এরপর থেকেই মেয়েটিকে দেহ ব্যবসা করতে বাধ্য করা হচ্ছিল। প্রতিবাদ করলেই মেয়েটির উপর শারীরিক নির্যাতন করা হত। শুক্রবার সকালে সকলের অগোচরে যৌনপল্লী থেকে পালিয়ে যায় নাবালিকা। কিছুটা দূরের একটি ধান খেতে সে গা ঢাকা দেয়। গতকাল সারাদিন-সারারাত সেখানে লুকিয়ে থাকে। শনিবার সকালে ধান খেতের মধ্যে মেয়েটিকে দেখতে পায় স্থানীয়রা। মেয়েটির কাছ থেকে সব শোনার পর খবর দেওয়া হয় বাহাদুরগঞ্জ থানায়। পুলিশ এসে মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
মেয়েটির চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ। সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন। গায়ে সিগারেটের আগুনে পোড়া দগদগে ঘা। এদিন উদ্ধারের পর মেয়েটিকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় বাহাদুরগঞ্জ হাসপাতালে। এই ঘটনায় দুই অজ্ঞাত পরিচয় পাচারকারী মহিলার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। মেয়েটিকে তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাহাদুর গঞ্জ থানার আইসি সন্দীপ কুমার।
