খোকন সাহা, বাগডোগরা: হঠাৎ করেই দেশজুড়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বিমান সংস্থা ইন্ডিগো (IndiGo)। মঙ্গলবার থেকে এখনও পর্যন্ত সারাদেশে এই সংস্থার দু’শোরও বেশি বিমান বাতিল হয়েছে। দেরিতে ওঠানামা করছে একাধিক বিমান। ফলে গন্তব্যে পৌঁছাতে গিয়ে মহাফ্যাসাদে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। দেশব্যাপী এই সমস্যার প্রভাব এসে পড়েছে বাগডোগরাতেও (Bagdogra Airport)। যা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। অনেকে ইন্ডিগোর বিমানের টিকিট বাতিল করে অন্য সংস্থার বিমানে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন।
বাগডোগরা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রোজদিন ইন্ডিগোর ১২টি বিমান ওঠামানা করে। যারমধ্যে কলকাতা-বাগডোগরা রুটে ৩টি, হায়দরাবাদ-বাগডোগরা রুটে ২টি, দিল্লি-বাগডোগরা রুটে ৩টি, বেঙ্গালুরু-বাগডোগরা রুটে ১টি, মুম্বই-বাগডোগরা রুটে ১টি, চেন্নাই- বাগডোগরা রুটে ১টি এবং দুর্গাপুর-বাগডোগরা রুটে ১টি বিমান ওঠানামা করে। এরমধ্যে বৃহস্পতিবার তিনটি বিমান বাতিল হয়েছে। বেশ কয়েক ঘণ্টা দেরিতে চলছে একাধিক বিমান। তবে রাত পর্যন্ত সেগুলি বাতিল হবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি। বিমান বাতিল ও দেরিতে চলা নিয়ে ইন্ডিগোর বাগডোগরা বিমানবন্দের ম্যানেজার দীপক অ্যান্টনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে বাগডোগরা বিমানবন্দরে ডিরেক্টর নাভিদ নাজিম বলেন, ‘এটা ইন্ডোগোর সমস্যা। অন্য উড়ান সময়মতো চলছে।’
বৃহস্পতিবার বাগডোগরা বিমানবন্দরে গিয়ে দেখা গেল, সময়ে বিমান না আসা এবং বাতিল হওয়া নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ রয়েছে। জৌনুন সাংমা নামে এক যাত্রী বললেন, ‘সকাল ৮টা ৪০-র বাগডোগরা থেকে কলকাতার বিমানের টিকিট কেটেছিলাম। কলকাতা থেকে আইজল যাওয়ার বিমানের টিকিট করা ছিল। এখানে এসে জানতে পারলাম কলকাতার বিমান বাতিল করা হয়েছে। বাধ্য হয়ে টিকিট বাতিল করলাম।’ তিনি জানান, সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে টাকা ফেরত দিয়ে দেবে।
চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরু যাওয়ার কথা ছিল ধূপগুড়ির বাসিন্দা অমিত দাসের। তিনি জানালেন, বুধবার টিকিট ছিল। বিমানবন্দরে এসে জানতে পেরেছিলেন বিমান বাতিল হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর টিকিটটি বৃহস্পতিবার করে দেওয়া হয়। বুধবার ধূপগুড়িতে ফিরে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার ফের ধূপগুড়ি থেকে বাগডোগরায় আসেন। তবে এদিনও বেঙ্গালুরুর বিমান বাতিল হয়েছে বলে জানানো হয় তাঁকে। পরপর দু’দিন হয়রানির শিকার হয়ে ক্ষোভ উগরে দেন অমিত। তিনি বলেন, ‘বারবার গাড়ি ভাড়া করে যাতায়াত করতে হচ্ছে। ভাড়ার টাকা কে দেবে?’
হয়রানির শিকার হয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও ইন্ডিগোর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন যাত্রীরা। ডিরেক্টর জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশনের (ডিজিসিএ) তরফে বিমানের সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে পাইলট এবং ক্রু মেম্বারদের ডিউটির অতিরিক্ত সময় কমানোর জন্য এফডিটিএল সংশোধন করা হয়। সেই সংশোধনে বলা হয়, একজন বিমানকর্মী দিনে ৮ ঘণ্টা এবং সপ্তাহে ৩৫ ঘণ্টা কাজ করবে। সূত্রের খবর, এই নিয়ম কার্যকর করতে গিয়েই ফ্যাসাদে পড়েছে ইন্ডিগো। কেননা এমনিতেই কর্মীসংকটে ভুগছে সংস্থাটি।
এরই মধ্যে বুধবার বিবৃতি দিয়ে ইন্ডিগো জানায়, প্রতিকূল আবহাওয়া, প্রযুক্তিগত ত্রুটি, বিমানকর্মীদের সংশোধিত কাজের সময়সূচি অর্থাৎ ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন (এফডিটিএল) সহ একাধিক কারণে এমন সমস্যা দেখা দিয়েছে। সমস্যা মেটাতে কাজ চলছে বলেও সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে।
