উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৬ সালের অসমেও বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ল (Assam Voter Record 2026)। ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI) সম্প্রতি অসমের সংশোধিত খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে প্রায় ১০.৫৬ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ সংশোধনী প্রক্রিয়ার (Particular Revision) মাধ্যমে এই নামগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে। গত ২২ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য যাচাই করা হয়েছিল। এই যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার পরেই খসড়া তালিকাটি প্রকাশ করা হয়। কমিশনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা নির্ভুল ও স্বচ্ছ রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য।
বাদ পড়া ১০.৫৬ লক্ষ নামের মধ্যে বড় একটি অংশ, প্রায় ৪.৭৯ লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছেন। এছাড়া ৫.২৩ লক্ষেরও বেশি ভোটার তাদের বাসস্থান পরিবর্তন করেছেন বা অন্য জায়গায় চলে গিয়েছেন। পাশাপাশি, প্রায় ৫৩,০০০ নাম নথিপত্রে অসঙ্গতি বা একাধিকবার নাম থাকার কারণে তালিকা থেকে সরানো হয়েছে। তবে, রাজ্যের প্রায় ৯৩,০২১ জন ‘ডি-ভোটার’ (D-Voters) বা সন্দেহজনক ভোটারের নাম তালিকায় রাখা হলেও, তারা ভোট দিতে পারবেন না। তাদের নাম, বয়স ও ছবি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, কিন্তু ফরেনস ট্রাইব্যুনালের রায়ের অপেক্ষায় তাদের ভোটাধিকার স্থগিত রয়েছে।
বর্তমানে আসামে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২.৫১ কোটির কিছু বেশি। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যাদের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বা যাদের কোনও অভিযোগ রয়েছে, তারা আগামী ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত তাদের দাবি ও আপত্তি জানাতে পারবেন। এই অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার পর আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
বিরোধী দলগুলো অবশ্য এই বিপুল সংখ্যক নাম বাতিলের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বৈধ ভোটারদের নাম বাদ পড়ে যেতে পারে। তবে কমিশন আশ্বাস দিয়েছে যে, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে।
