উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: নাগোয়া এশিয়ান গেমসের (Asian Video games) পুরো আসর জুড়েই আয়োজকদের গাফিলতি এবং অব্যবস্থার অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহলে। ভারত, পাকিস্তান, উজবেকিস্তান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশের প্রতিনিধিরা শুরু থেকেই আবাসন, যাতায়াত এবং খাদ্য সরবরাহ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। টুর্নামেন্টের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসেও সেই বিশৃঙ্খলার ছবি বদলাল না, যার জেরে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে জাপানে (Japan)।
আসরের শেষ দিনে ছেলেদের ফুটবল ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল স্বাগতিক জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া (South Korea)। কঠিন লড়াইয়ে স্বাগতিকদের ১-০ গোলে পরাজিত করে টানা চতুর্থবারের মতো এশিয়াডের সোনা নিজেদের দখলে রাখে দক্ষিণ কোরিয়া। কিন্তু এই জয়ের আনন্দ ম্লান হয়ে যায় পুরস্কার বিতরণী মঞ্চের এক অনভিপ্রেত ঘটনায়। নিয়ম অনুযায়ী সোনাজয়ী দক্ষিণ কোরিয়া, রুপোজয়ী জাপান এবং ব্রোঞ্জজয়ী চীনের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কথা ছিল। জাপান ও চীনের পতাকা যথাসম্ভব ওপরে উঠলেও, যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা কর্মীদের ভুলে মাঝপথেই আটকে যায় দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় পতাকা (Flag Controversy)। দীর্ঘ চেষ্টা সত্ত্বেও আয়োজকরা তা ঠিক করতে ব্যর্থ হন।
স্টেডিয়ামে উপস্থিত দক্ষিণ কোরিয়ার সমর্থকরা এই দৃশ্য দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং গ্যালারি থেকে আয়োজকদের বিরুদ্ধে তীব্র বিদ্রুপ শুরু করেন। ক্ষোভ গোপন করেননি দলের ফুটবল অধিনায়ক লি জি হিউকও। তিনি জানান, ‘‘আমি মনে করি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান উদ্যাপনের উপলক্ষ হওয়া উচিত। এই পদকটা জেতার জন্য আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। অথচ আয়োজকেরা আমাদের দেশের পতাকাটাও ঠিক মতো তুলতে পারলেন না। বিষয়টা অত্যন্ত হতাশাজনক। আমি নিশ্চিত ফুটবলারদের পাশাপাশি আমাদের সমর্থকেরাও ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তাঁরা ওত দূর থেকে জাপানে এসেছেন শুধু আমাদের সমর্থন করবেন বলে।’’ দক্ষিণ কোরিয়ার গণমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, বিজয়ী দলের জাতীয় সংগীত শেষ হওয়ার পরেই কেবল পতাকাটি সম্পূর্ণ ওপরে তোলা সম্ভব হয়।
নাগোয়া গেমসের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন দক্ষিণ কোরিয়া স্পোর্ট অ্যান্ড অলিম্পিক কমিটির সভাপতি রিউ সেউং-মিনও। তাঁর মূল্যায়ন ছিল স্পষ্ট—‘‘আমরা যদি এ বারের আয়োজনের মান বলতে চাই, তা হলে ‘এফ’র বেশি দেওয়া যাচ্ছে না।’’ এর আগে প্রতিযোগিতার একটি হকি ম্যাচে ভুলবশত দক্ষিণ কোরিয়ার বদলে উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সংগীত বাজানোর মতো গুরুতর ভুলও করেছিল আয়োজকরা, যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া। একের পর এক এমন অসঙ্গতি এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় জাপান কর্তৃপক্ষের ওপর তীব্র বিরক্তি ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া শিবিরে।

