সালানপুর: কয়লাখনিতে অতিরিক্ত মাত্রায় ব্লাস্টিং বা বিস্ফোরণের জেরে ভয়াবহ ধস নামল আসানসোলের (Asansol) সালানপুরের (Salanpur) বনজেমারি এলাকায়। শুক্রবার বিকেলে বনজেমারী নিউ কলোনি সংলগ্ন ইসিএলের কয়লা খনি এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। ধসের জেরে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা ইসিএলের কয়লা পরিবহনের মূল রাস্তাটি অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। যার ফলে সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়ে উৎপাদন ও কয়লা পরিবহন ব্যবস্থা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে আচমকাই সালানপুরের বনজেমারি নিউ কলোনি থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে বিশাল এলাকা জুড়ে ধস (Landslide) নামে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, বনজেমারিতে ইসিএল কয়লাখনিতে প্রতিনিয়ত নিয়ম বহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত মাত্রায় ব্লাস্টিং করা হচ্ছে। আর তার জেরেই এদিনের এই ভয়াবহ ধস নামে।
বিক্ষোভকারী কলোনির বাসিন্দারা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, কয়লাখনিতে ব্লাস্টিংয়ের সময় তীব্র কম্পনে কেঁপে ওঠে আমাদের ঘরবাড়ি।এলাকার একাধিক বাড়ি ও দেওয়ালে ইতিমধ্যে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় খনি থেকে বড় বড় পাথর ছিটকে এসে পড়ছে তাঁদের বাড়ির উঠোনে ও চালে। মাত্র ৫০ মিটার দূরেই জনবসতি থাকায় যেকোনো মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন তাঁরা। বর্তমানে গোটা এলাকা তীব্র আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।
নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকা নিউ কলোনির স্থানীয় বাসিন্দারা শুক্রবার বিকেলে ইসিএলের কয়লা পরিবহনের রাস্তায় বসে পড়েন। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে অবিলম্বে তাঁদের নিরাপদ স্থানে উপযুক্ত পুনর্বাসন দিতে হবে ইসিএল কর্তৃপক্ষকে। অবরোধের জেরে খনির কয়লা তোলার গাড়ি ও পরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি থমকে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান ইসিএলের পদস্থ আধিকারিকরা। তাঁরা ধসকবলিত এলাকাটি ঘুরে দেখেন। ইসিএল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে অবিলম্বে ধস নামা এলাকাটি বালি বা মাটি দিয়ে ভরাট বা ফিলিং করার কাজ শুরু করা হবে।
পাশাপাশি, ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই বিষয়েও কড়া নজরদারি চালানো হবে বলে ইসিএলের তরফে জানান হয়েছে। ইসিএল কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পর বিক্ষোভ তুলে নেন এলাকার বাসিন্দারা। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে।

