উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: প্রায় এক বছর ধরে সরকারি আবাসন নিয়ে চলতে থাকা অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল। আম আদমি পার্টির (AAP) প্রধান তথা দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে অবশেষে দিল্লির লোধি এস্টেটে একটি সরকারি বাংলো বরাদ্দ করা হয়েছে। একটি জাতীয় স্তরে স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের সভাপতি হিসেবে উপযুক্ত বাসস্থানের দাবিতে দিল্লি হাইকোর্টে তাঁর আবেদনের পরই কেন্দ্রীয় সরকার এই পদক্ষেপ নিল।কেন্দ্রীয় সরকার কেজরিওয়ালকে ৯৫, লোধি এস্টেটে একটি টাইপ-VII বাংলো বরাদ্দ করেছে। সোমবারই আপ নেতা এই নতুন বাসভবনটি পরিদর্শন করেন বলে জানা গিয়েছে।
এই টাইপ-VII বাংলোটি প্রায় ৫,০০০ বর্গফুট জায়গার উপর অবস্থিত। এই ধরনের বাংলোতে সাধারণত চারটি শোবার ঘর, সুবিশাল লন, একটি গ্যারেজ এবং তিনটি সার্ভেন্ট কোয়ার্টার থাকে। কেজরিওয়ালের নতুন বাড়িতে দুটি পার্শ্ববর্তী লন ও অফিসের জন্য আলাদা জায়গা রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে আপ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে লোধি এস্টেটের ৩৫ নম্বর বাংলোটি চেয়েছিল, যা পূর্বে মায়াবতী ব্যবহার করতেন। তবে সেই আবাসনটি গত জুলাই মাসে কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরীর জন্য বরাদ্দ করা হয়।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ইস্তফা দেওয়ার পর থেকেই কেজরিওয়াল স্থায়ী সরকারি আবাসনবিহীন ছিলেন। ৬, ফ্ল্যাগস্টাফ রোডে তাঁর পুরনো বাসভবনটি ত্যাগ করার পর তিনি সাময়িকভাবে আপ-এর রাজ্যসভার সাংসদ অশোক মিত্তলের ৫, ফিরোজশাহ রোড-এর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
লোধি এস্টেটের এই নতুন ঠিকানায় কেজরিওয়াল বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বকে প্রতিবেশী হিসেবে পাচ্ছেন। তাঁর ঠিক পাশেই, ৯৭ নম্বর বাংলোতে থাকেন কংগ্রেস নেতা শশী থারুর। ৯৪ এবং ৯৬ নম্বর বাংলো দুটি বরাদ্দ হয়েছে সামরিক কর্মকর্তাদের জন্য। এছাড়াও, আরজেডি-র মিসা ভারতী (৮২) এবং কংগ্রেসের প্রিয়াঙ্কা গান্ধী (৮১) লোধি এস্টেটেই কাছাকাছি এলাকায় থাকেন।
এদিকে, কেজরিওয়ালের পুরনো সরকারি বাসভবন ৬, ফ্ল্যাগস্টাফ রোড, যেটি মুখ্যমন্ত্রিত্বের সময়ে সংস্কারের জন্য দুর্নীতির অভিযোগে বিতর্কের সম্মুখীন হয়েছিল, সেটিকে দিল্লি সরকার একটি ক্যাফেটেরিয়া সহ রাজ্য অতিথি ভবনে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা করছে।
