উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দেশের প্রতিরক্ষায় বড় পদক্ষেপ। এবার সেনা, নৌ ও বায়ুসেনাকে ঢেলে সাজাতে ৬৭ হাজার কোটি টাকার চুক্তিতে অনুমোদন (Arms Offers) দিল ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC)। মঙ্গলবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের (Rajnath Singh) সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসে DAC। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে জানা যায়। তিন বাহিনীর আধুনিকীকরণের পাশাপাশি অপারেশনাল ক্ষমতা বাড়ানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
কী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বেঠকে? ৮৭টি সশস্ত্র ড্রোন কেনা হবে। এই ড্রোনগুলি তৈরি হবে ৬০ শতাংশ দেশীয় উপকরণ দিয়ে। এর জন্য বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করবে একটি ভারতীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানি। ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor)-এর সময় সশস্ত্র ড্রোনের প্রয়োজনীয়তা বুঝেছে ভারতের তিন বাহিনীই। এই ধরনের ৮৭টি ড্রোনের জন্য ভারতের খরচ পড়বে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। এমনই জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। তিনি আরও জানান, আর এই ড্রোন কেনার পর ১০ বছর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আরও ১১ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। এছাড়াও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অনুমতিতে নতুন ১১০টি ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র কেনারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া ভারত আরও ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র কেনারও পরিকল্পনা করেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর BMP (Bojevaya Mashina Pekhoty – সাঁজোয়া গাড়ি) যুদ্ধযান-এর জন্য Thermal Imager-ভিত্তিক ড্রাইভার নাইট সাইট কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এতে কম আলোয় বা রাতে চালকের দেখতে কোনও অসুবিধা হবে না।
নৌবাহিনীর জন্য Compact Autonomous Floor Craft কেনার অনুমোদন দিয়েছে DAC। এই স্বয়ংক্রিয় নৌযান সাবমেরিন শনাক্ত করতে পারে। আকাশপথে শত্রুর গতিবিধির উপরে নজর রাখতে পাহাড়ি সীমান্তে বসানো হবে Mountain Radar। পাশাপাশি SPYDER মিসাইস সিস্টেমকে আপগ্রেড করে IACCS (Built-in Air Command and Management System)-এর সঙ্গে যুক্ত করার কাজও চলবে। তিন বাহিনীর জন্য MALE (Medium Altitude Lengthy Endurance) ড্রোন কেনা হবে বলে জানা গিয়েছে। এই ড্রোনগুলি দীর্ঘক্ষণ আকাশে উড়তে পারে। নজরদারি চালানোর পাশাপাশি অস্ত্রশস্ত্রেও নজর দেওয়া হচ্ছে। C-17 ও C-130J বিমানের রক্ষণাবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে DAC। একইসঙ্গে S-400 লং রেঞ্জ মিসাইল সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বার্ষিক চুক্তির অনুমোদনও মিলেছে।
