চটকল শ্রমিকদের জন্য সস্তায় ফ্ল্যাট তৈরি করে দেবে রাজ্য সরকার। মাত্র ৫০ হাজার টাকা দিলেই ফ্ল্যাট পাবেন তাঁরা। বাকি অর্থ দেবে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-আরবান ২.০ -এর ‘অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং ইন পার্টনারশিপ’ প্রকল্পে অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল শ্রেণির যোগ্য চটকল শ্রমিকদের পাকা বাড়ির ব্যবস্থা করা হবে। প্রাথমিক ভাবে উত্তর ২৪ পরগনা ও হুগলি জেলায় পরীক্ষামূলক ভাবে প্রকল্পটি চালু হচ্ছে। সোমবার সাংবাদিক সম্মেলন করে একথা জানান রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে পুরনো ও জরাজীর্ণ শ্রমিক কোয়ার্টারে বসবাস করছেন বহু চটকল শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার। তাঁদের জন্য নিরাপদ ও সস্তায় আবাসন তৈরি করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। ইতিমধ্যেই প্রায় ৮ হাজার শ্রমিক এই প্রকল্পে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আবেদনপত্র যাচাই করে যোগ্যদের তালিকা তৈরি করা হবে।”
প্রকল্পের জন্য উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়া, টিটাগড় ও কামারহাটি পুরসভাকে জমি চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে। হুগলিতে চটকল শ্রমিকদের আবেদন গ্রহণের জন্য শ্রম কমিশনারেটের সহযোগিতায় বিশেষ শিবির করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
প্রকল্পের আওতায় আসতে হলে আবেদনকারীকে অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল শ্রেণিভুক্ত হতে হবে। পরিবারের বার্ষিক আয় হতে হবে সর্বাধিক ৩ লক্ষ টাকা। আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের কোনও সদস্যের নামে দেশের কোথাও পাকা বাড়ি থাকা চলবে না। পাশাপাশি গত ২০ বছরে কেন্দ্র বা রাজ্যের কোনও আবাসন প্রকল্পের সুবিধা নেওয়া থাকলে এই প্রকল্পে আবেদন করা যাবে না। মন্ত্রী জানান, প্রতি ফ্ল্যাট তৈরিতে আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে ৫.৫০ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে কেন্দ্রের অনুদান ১.৫০ লক্ষ টাকা এবং রাজ্যের অনুদান ২.৭৯ লক্ষ টাকা। সুবিধাভোগীকে দিতে হবে মাত্র ৫০ হাজার টাকা। বাকি প্রায় ৭১ হাজার টাকা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা বহন করবে। প্রতিটি বাড়ির কার্পেট এরিয়া হবে ৩০ থেকে ৪৫ বর্গমিটার, অর্থাৎ প্রায় ৩২০ থেকে ৪৮৫ বর্গফুট। থাকবে দু’টি ঘর, একটি রান্নাঘর এবং একটি শৌচাগার। সাধারণত জি+৩ ভবনে প্রতি তলায় চারটি করে মোট ১৬টি ফ্ল্যাট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পের জন্য উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়া, টিটাগড় ও কামারহাটি পুরসভাকে জমি চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে। হুগলিতে চটকল শ্রমিকদের আবেদন গ্রহণের জন্য শ্রম কমিশনারেটের সহযোগিতায় বিশেষ শিবির করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শ্রমদপ্তর জেলা প্রশাসন, পুরসভা, ট্রেড ইউনিয়ন এবং চটকল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে যোগ্য শ্রমিকদের চিহ্নিত করবে। প্রকল্পের মূল বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে সংশ্লিষ্ট পুরসভার উপর। পাশাপাশি বিধবা, একক মহিলা, প্রতিবন্ধী, প্রবীণ নাগরিক, রূপান্তরকামী এবং তফসিলি জাতি-উপজাতি, সংখ্যালঘু ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণির আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী পরিবারের ক্ষেত্রে নিচতলা বা নিচের দিকের তলার ফ্ল্যাট দেওয়ার ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকার থাকবে। ইউনিফাইড ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ফর্মে আবেদন করতে হবে। ফ্ল্যাট পাওয়ার পর প্রথম ৫ বছর তা বিক্রি বা হস্তান্তর করা যাবে না।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
