উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: নতুন বছরের শুরুতেই সঙ্গীতমহলে যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত। গত দেড় দশক ধরে যার কণ্ঠের জাদুতে বুঁদ হয়ে আছে গোটা দেশ, সেই অরিজিৎ সিং (Arijit Singh) কি না আচমকা সরে দাঁড়াচ্ছেন সিনেমার গান থেকে! সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া অরিজিতের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের একটি পোস্ট ঘিরে এখন তোলপাড় নেটপাড়া। সেখানে স্পষ্ট ইঙ্গিত—বলিউডের ‘ফরমায়েশি’ গানে আর গলা মেলাবেন না জিয়াগঞ্জের ভূমিপুত্র।
একঘেয়েমি নাকি শিকল ভাঙার গান? ভাইরাল হওয়া স্ক্রিনশটে অরিজিৎ লিখেছেন, “আমি খুব দ্রুত বোর হয়ে যাই। আর এটাই অন্যতম কারণ।” কিন্তু এই ‘একঘেয়েমি’ কি শুধুই কাজের ক্লান্তি? নাকি শিল্পীসত্তার মুক্তি? পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৫ বছরে ৮০০-র বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। বছরে গড়ে ৫৩টিরও বেশি গান। কিন্তু ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, মুম্বাইয়ের গ্ল্যামার, প্রযোজক-পরিচালকের শর্ত এবং বাজারের চাহিদার চাপে হাঁপিয়ে উঠছিলেন মাটির কাছাকাছি থাকা এই মানুষটি। ফেম গুরুকুলের মঞ্চ থেকে শুরু করে ‘আশিকি ২’-এর তুমুল জনপ্রিয়তা—সাফল্যের সবটুকু দেখলেও, অরিজিৎ মনেপ্রাণে মুর্শিদাবাদের সেই সাধারণ ছেলেটিই রয়ে গিয়েছেন, যিনি লাইমলাইটের চেয়ে নিজের স্টুডিয়োর নির্জনতা বেশি ভালোবাসেন।
ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিউজিকের নতুন অধ্যায়? অরিজিতের এই সিদ্ধান্তকে অনেকে ‘অবসর’ বললেও, ওয়াকিবহাল মহলের মতে এটি আসলে ‘নবজন্ম’। সিনেমার গানে যেখানে অন্যের সুরে ও কথায় গাইতে হয়, সেখানে অরিজিৎ চাইছেন নিজের শর্তে গান বাঁধতে। ‘পাগলাই’ ছবির মিউজিক কম্পোজিশন বা তাঁর সাম্প্রতিক স্টেজ শো-গুলোতে গানের অ্যারেঞ্জমেন্ট বদলানো—সবই ইঙ্গিত দিচ্ছিল যে তিনি ধরাবাঁধা ছক ভাঙতে চাইছেন।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আমি গান গাওয়া ছাড়ছি, তবে গান ছাড়ছি না।” অর্থাৎ, বলিউড হয়তো তার সেরা রত্নকে হারাল, কিন্তু সঙ্গীত জগত সম্ভবত ফিরে পেতে চলেছে এক আপাদমস্তক স্বাধীন শিল্পীকে। যিনি এবার আর বাজারের কাটতি মেপে নয়, বরং হৃদয়ের স্পন্দনে গান বাঁধবেন। ভক্তদের কাছে এ এক বড় ধাক্কা হলেও, হয়তো আগামীর অরিজিৎ আরও বেশি আপন, আরও বেশি মৌলিক।
