উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : হাল ছেড়ো না বন্ধু। এবারের বিশ্বকাপে এটাই যেন আর্জেন্টিনার থিম সং হতে পারে। ম্যাচের ৮৪ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে হারের শঙ্কায় কাঁপছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু শেষ মুহূর্তের মাত্র ৭ মিনিটের ঝড়েই বদলে গেল পুরো দৃশ্যপট। ৮৫ মিনিটে সমতা ফেরানোর পর, ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে জয়সূচক গোল! ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে স্তব্ধ করে দিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে টিকিট কাটল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলের চেয়ে শারীরিক শক্তিমত্তা ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের প্রদর্শনীই বেশি দেখা গেছে দুই দলের মধ্যে। প্রথমার্ধে মাঠজুড়ে ছিল ফাউলের ছড়াছড়ি। দুই দল মিলিয়ে মোট ১৯টি ফাউল করে, যার মধ্যে আর্জেন্টিনাই করেছে ১২টি এবং ইংল্যান্ডের অবদান ৭টি। ফাউলের এই ঘনঘটায় কোনো পক্ষই প্রথমার্ধে গোল অভিমুখে (অন টার্গেট) কোনো শট নিতে পারেনি। ফলে গোলশূন্য সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই বিশ্বশক্তি।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় খেলার গতি। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে প্রথম ডেডলক ভাঙে ইংল্যান্ড। ডান প্রান্ত থেকে মরগান রজার্সের চমৎকার এক ক্রস খুঁজে নেয় অ্যান্থনি গর্ডনকে। নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করে ইংলিশ শিবিরে উল্লাস বয়ে আনেন গর্ডন। পিছিয়ে পড়ার পর আর হারানোর কিছু ছিল না আলবিসেলেস্তেদের। সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে অলআউট আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। ইংলিশ রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রেখে অবশেষে ৮৫ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় তারা। ডি-বক্সের বাইরে থেকে এনজো ফার্নান্দেজের এক দুর্দান্ত দূরপাল্লার শট ইংল্যান্ডের জাল কাঁপিয়ে ম্যাচ সমতায় ফেরায়।
সমতার স্বস্তি নিয়ে ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ের (ইনজুরি টাইম) দ্বিতীয় মিনিটে আসে সেই ম্যাজিক মুহূর্ত। লিওনেল মেসির মাপা ক্রস থেকে উড়ে আসা বলে চোখ ধাঁধানো হেডে গোল করেন লাওতারো মার্টিনেজ। এই নাটকীয় গোলের ওপর ভর করেই ২-১ ব্যবধানের অবিশ্বাস্য জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
