উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ পেনাল্টি মিস, গোলপোস্টের বাধা, আর প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের অতিমানবীয় পারফরম্যান্স—প্রথমার্ধ শেষে যা মনে হচ্ছিল আর্জেন্টিনার জন্য এক দুঃস্বপ্ন, দ্বিতীয়ার্ধে তা-ই রূপ নিল এক রূপকথার গল্পে। শুরুতে দুই গোলে পিছিয়ে পড়লেও, অধিনায়ক লিওনেল মেসির অবিশ্বাস্য নেতৃত্বে মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল আর্জেন্টিনা (Argentina vs Egypt)।
ম্যাচের ১৫ মিনিটের মাথায় ইয়াসির ইব্রাহিমের হেড থেকে গোল করে মিশরকে এগিয়ে দেন। সমতা ফেরানোর সুযোগ এসেছিল ১৯ মিনিটে, কিন্তু পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন লিওনেল মেসি। এরপর ৩১ মিনিটে মেসির বুলেট গতির শট সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে এবং ৩৯ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের নিশ্চিত গোল রুখে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের। ০-১ গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় মেসিদের।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আরও চাপে পড়ে আর্জেন্টিনা। মিশর গোল করে ব্যবধান ২-০ করলেও, ভার (VAR) প্রযুক্তির সাহায্যে ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। কিন্তু তাতেও রক্ষা মেলেনি, কিছুক্ষণ পরেই মোস্তাফা জিকোর গোলে মিশর ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। মোহাম্মদ সালাহর ‘ক্লাসিক কাউন্টার অ্যাটাক’ থেকে আসা সেই গোলটিতে মনে হয়েছিল আর্জেন্টিনার বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে।
ম্যাচের শেষদিকে যখন সব আশা শেষ, তখনই জ্বলে উঠলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে মেসির দুর্দান্ত ক্রসে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো হেড থেকে এক গোল শোধ করেন। ব্যবধান ২-১ হতেই নতুন প্রাণ ফিরে পায় আর্জেন্টিনা। সমতায় ফিরতে মেসিদের সময় লাগল মাত্র চার মিনিট! বক্সে ঢুকে দুর্দান্ত এক শটে মিশরীয় গোলরক্ষক শোবেরকে পরাস্ত করে স্কোরলাইন ২-২ করেন স্বয়ং মেসি। এই গোলটির মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে গোল করার রেকর্ড গড়লেন এলএমটেন।
২-০ থেকে ২-২ সমতা ফেরানোর পর আক্রমণের জোয়ার বইয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়ে লাউতারো মার্তিনেজের নিখুঁত ক্রসে হেডে গোল করে ৩-২ ব্যবধান গড়ে দেন এঞ্জো ফের্নান্দেজ। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে নাটকীয় জয়ে সমর্থকদের উন্মাদনায় ভাসাল আর্জেন্টিনা।
প্রথমার্ধে যে মিশর গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেরের অতিমানবীয় সেভে কোণঠাসা ছিল আর্জেন্টিনা, দ্বিতীয়ার্ধে সেই ব্যবধান ঘুচিয়ে মেসি প্রমাণ করলেন কেন তিনি ফুটবল বিশ্বের চিরস্থায়ী বিস্ময়। দুর্দান্ত এই জয়ের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনা এখন পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রস্তুতি শুরু করবে।

