আলিপুরদুয়ার: ক্ষমতায় আসার আগে পূর্ববর্তী সরকারের আমলে শুরু হওয়া লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের (Lakshmir Bhandar) টাকা দ্বিগুণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) মতো নির্বাচনি চমকের কথা ঘোষণা করেছিল বিজেপি। রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর সেই অন্নপূর্ণা যোজনার কাজ চালুও হয়েছে। তবু যেন প্রকল্পটি নিয়ে বিতর্ক আর বিভ্রান্তি পিছু ছাড়ছে না। আগে প্রকল্পের দীর্ঘ ফর্ম পূরণ এবং আবেদনের পরেও অ্যাকাউন্টে টাকা না ঢোকায় প্রতিবাদও শুরু হয়েছে। এর মধ্যে যত দিন যাচ্ছে আলিপুরদুয়ার জেলার বিভিন্ন এলাকার মহিলাদের কাছে এই প্রকল্প যেন হয়ে উঠছে আরও জটিল গোলকধাঁধা। যাঁরা নতুন করে প্রকল্পে আবেদন করছেন তাঁরা সঠিক তথ্য না পেয়ে বিডিও অফিসের চক্কর কেটে কেটে হয়রান হচ্ছেন। একই ছবি ব্যাংকেও দেখা যাচ্ছে। আবার যাঁরা টাকা পেয়েছেন তাঁদের মধ্যেও নানা বিভ্রান্তি রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ যেমন হয়রান হচ্ছেন, তেমনই সরকারি দপ্তরগুলির অন্য কাজে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বুধবার আলিপুরদুয়ারের বিভিন্ন জায়গায় সেই ছবি দেখা গেল।
বুধবার আলিপুরদুয়ার (Alipurduar)-১’এর বিডিও অফিসে এসেছিলেন বঞ্চুকামারির বাসিন্দা শ্যামলী বর্মন। মঙ্গলবার তিনি অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করেছেন অনলাইনে। আবার এদিনই নিজের যাবতীয় নথি তিনি বিডিও অফিসে জমা দিতে আসেন। প্রায় আধ ঘণ্টা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকার পর দপ্তরের এক কর্মী জানান, নথি জমা দিতে হবে না। এক মাস পর যোগাযোগ করতে বলা হয় তাঁকে। হতাশ হয়ে বিডিও অফিস থেকে বেরিয়ে শ্যামলী বললেন, ‘এক প্রতিবেশী আমাকে জানাল যে ওই নথিগুলি জমা করতে হবে। তাই ৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে এলাম। যাওয়ার সময়ও একই খরচ।’ অন্যদিকে, তাঁর মতোই শালকুমার থেকে এসেছিলেন আরতি রায়, কুসুম ওরাওঁরা। অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকলেও তাঁরা এদিন নথি জমা দিতে আসেন। তাঁরা নাকি শুনেছেন নথি জমা না দিলে টাকা বন্ধ হয়ে যাবে।
আসল নিয়ম কী, জিজ্ঞাসা করায় জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক স্পষ্ট করেন, ‘অনলাইন বা অফলাইনে আবেদন করলে বিডিও অফিসে আসতে হবে না সবাইকে। যদি কারও আবেদনের স্ট্যাটাস আন্ডার এনকোয়ারি দেখায় বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সমস্যা হয়, তাহলেই নথি জমা দিতে হবে। সঠিক তথ্য না থাকায় বিডিও অফিসে ছুটছেন অনেকে।’ এদিকে, যাঁরা অফলাইনে আবেদন করছেন তাঁদের বিভ্রান্তি আরও বেশি। কারণ অনলাইনে আবেদন করলে যেমন আবেদনের স্থিতি জানা যায়, অফলাইনে সেই ব্যবস্থা নেই। কাজেই বিডিও অফিস, গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস কিংবা ব্যাংকে ছুটছেন অনেকে।
বারবার হয়রান হয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ জমেছে। অনেকের মতে, এই সমস্যার অন্যতম কারণ হল সঠিক তথ্য প্রকাশ না করা এবং আবেদন প্রক্রিয়ায় জটিলতা। জানা গিয়েছে, অফলাইনে আবেদন করলেও অনেকের আবেদনের তথ্য এখনও নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড করা হয়নি। বিডিও অফিসগুলিতে এখনও সেই তথ্যই আপলোড করার কাজ চলছে। অন্যদিকে, বিভিন্ন সময় ভুল তথ্য আপলোড হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন মহিলাদের কাছে রীতিমতো ধোঁয়াশা হয়ে থাকছে। সকলেরই দাবি, দ্রুত অবস্থা স্বাভাবিক হোক।

