উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ উত্তরাখণ্ডের চাঞ্চল্যকর অঙ্কিতা ভাণ্ডারী (Ankita Bhandari) হত্যা মামলায় ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতি। মেয়ের মৃত্যুর ন্যায়বিচার এবং সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবিতে নয়াদিল্লির ইন্ডিয়া গেটের কাছে সারারাত ধরে অবস্থান বিক্ষোভ করেন অঙ্কিতার বাবা-মা। এরপর আজ সকালে পুলিশ তাঁদের আটক করে এবং পরে মুক্তি দেয়।
এই বিক্ষোভে অঙ্কিতার পরিবারের সঙ্গে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা সহ একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন।
পরিবারের প্রধান দাবি, এই মামলার সঙ্গে নাম জড়ানো বিজেপির নেতা দুষ্মন্ত কুমার গৌতম (Dushyant Kumar Gautam)-কে সিবিআই তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো উচ্চ পদে রাখা যাবে না। সম্প্রতি দুষ্মন্ত গৌতমকে সিকিমের রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। যদিও গৌতম সমস্ত অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও করেছেন।
অঙ্কিতার মা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, নিয়োগ বাতিল না হলে তাঁরা নিজ বাড়িতেই আমরণ অনশনে বসবেন। অন্যদিকে, অঙ্কিতার বাবা সরকারকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বলেছেন, দাবি না মানলে সারা দেশের মানুষ রাস্তায় নেমে আন্দোলন করবে। কংগ্রেসের অভিযোগ, রাজ্যপাল পদে থাকলে ফৌজদারি আইনি প্রক্রিয়ায় সুরক্ষার সুবিধা পাওয়া যায়, আর সেই উদ্দেশ্যেই গৌতমকে সিকিমের রাজ্যপালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মামলার সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপট
- ঘটনা: ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঋষিকেশের ‘বনতারা’ রিসর্টের রিসেপশনিস্ট ১৯ বছর বয়সি অঙ্কিতা ভাণ্ডারীকে খুন করা হয়। চার দিন পর একটি ক্যানেল থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
- সাজা: এই ঘটনায় রিসর্টের মালিক তথা তৎকালীন বিজেপি নেতার পুত্র পুলকিত আর্য এবং তার দুই সহযোগীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
- নতুন মোড়: মামলায় এক অজ্ঞাতপরিচয় ‘ভিআইপি’-র যোগ থাকার অভিযোগ ওঠার পর, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে অঙ্কিতার বাবা-মা এই হত্যাকাণ্ডে দুষ্মন্ত গৌতমের নাম প্রকাশ্যে আনেন।

