উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: অনিল আম্বানির (Anil Ambani) রিলায়েন্স গ্রুপের সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির মামলায় অবশেষে প্রথম গ্রেপ্তার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সূত্রের খবর, একটি কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টরকে ভুয়ো ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি জমা দেওয়ার অভিযোগে নিজেদের হেপাজতে নিয়েছে ইডি। এই গ্যারান্টিগুলি রিলায়েন্স পাওয়ার-এর পক্ষ থেকে জমা দেওয়া হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে।
এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট সূত্রে খবর, বিশওয়াল ট্রেডলিংক প্রাইভেট লিমিটেড-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর পার্থ সারথি বিশওয়ালকে শুক্রবার প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA), ২০০২-এর অধীনে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ, ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশওয়াল ট্রেডলিংক এবং তার পরিচালকরা সোলার এনার্জি কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার (Photo voltaic Vitality Company of India) কাছে ৬৮.২ কোটি টাকার ভুয়ো ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি জমা দিয়েছিল। এক্ষেত্রে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (sbi.co.in)-এর আসল ডোমেনের মতো দেখতে একটি নকল ডোমেন (s-bi.co.in) ব্যবহার করা হয়।
তদন্তে ইডি আরও জানতে পেরেছে, এই ভুয়ো গ্যারান্টিগুলি তৈরি করার জন্য বিশওয়াল ট্রেডলিংক রিলায়েন্স পাওয়ার থেকে ৫.৪ কোটি টাকা নিয়েছিল। কোম্পানিটি কমপক্ষে সাতটি গোপন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করত এবং নিয়ম অনুযায়ী বাধ্যতামূলক নথিও রাখত না। এছাড়া, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে সই করার জন্য তারা ‘ডামি’ ডিরেক্টরদের ব্যবহার করত বলেওম জানা গিয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর পার্থ সারথি বিশওয়ালকে একটি বিশেষ আদালতে পেশ করা হলে আদালত তাকে আগামী বুধবার পর্যন্ত ইডি-র হেপাজতে রাখার নির্দেশ দেয়। প্রসঙ্গত,ঋণ জালিয়াতির এই একই মামলায় অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে লুকআউট সার্কুলার জারির আবহেই এই গ্রেপ্তারির ঘটনাটি ঘটল।
প্রসঙ্গত, ইডি ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ইয়েস ব্যাঙ্ক থেকে রিলায়েন্স গ্রুপের কোম্পানিগুলিকে দেওয়া প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকার ঋণের অপব্যবহারের অভিযোগের তদন্ত করছে। এই মামলার সঙ্গে যুক্ত ৫০ টিরও বেশি সংস্থায় গত ২৪ শে জুলাই থেকে টানা তিন দিন ধরে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল ইডি।
