উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ব্রিটেনের রাজনীতিতে ফের পালাবদল। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির (Labour Occasion) নতুন নেতা নির্বাচিত হয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহাম (Andy Burnham)। এর ফলে ব্রিটেনের ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের (Larger Manchester) এই বিদায়ী মেয়র। আগামী সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন তিনি। তবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই বার্নহাম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের জন্য তাঁর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর ভাষায়— ‘‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’’। এমনকি সোমবার শপথ নেওয়ার আগেই তিনি নিজের মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত করে ফেলবেন বলেও ঘোষণা করেছেন।
গত ২২ জুন আকস্মিকভাবেই প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা করেন কিয়ের স্টার্মার (Keir Starmer)। তারপর থেকেই ব্রিটিশ রাজনীতিতে তাঁর উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছিল।
তবে ভাগ্য বার্নহামের সহায় ছিল। স্টার্মারের পদত্যাগের ঠিক তিন দিন আগে উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের মেকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ‘হাউস অফ কমন্স’-এ প্রবেশ করেছিলেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের তৎকালীন মেয়র বার্নহাম। শেষপর্যন্ত শুক্রবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে লেবার পার্টির নেতা হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়। দলের বিশেষ সম্মেলনে লেবার পার্টির ন্যাশনাল এগ্জ়িকিউটিভ কমিটির (এনইসি) চেয়ারপার্সন শাবানা মাহমুদ জানান, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই বিনা বাধায় দলের শীর্ষ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহাম।
নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের প্রথম ভাষণেই ব্রিটিশ আমজনতার উদ্দেশ্যে পাঁচ দফা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বার্নহাম। তাঁর দেওয়া সেই ৫টি মূল অঙ্গীকার হল- দলীয় ঐক্য বজায় রাখা, নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা, আদর্শগত ভিত্তি, আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণ, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ।
ব্রিটিশ রাজনীতির ইতিহাস বলছে, গত এক দশকে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে। ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট ছয়জন প্রধানমন্ত্রী এসেছেন এবং চলে গেছেন। কিয়ের স্টার্মারের পূর্বসূরিদের তালিকায় ছিলেন ঋষি সুনক, লিজ ট্রাস, বরিস জনসন, টেরেসা মে এবং ডেভিড ক্যামেরন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই পাঁচজনই ছিলেন লেবার পার্টির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল কনজ়ারভেটিভ পার্টির নেতা।
টানা রাজনৈতিক টালমাটালের পর কিয়ের স্টার্মারের হাত ধরে লেবার পার্টি ক্ষমতায় এলেও তিনি বেশিদিন টিকতে পারেননি। এবার কনজারভেটিভদের হারিয়ে আসা লেবার পার্টির অন্দরে ও দেশের শাসনভার সামলাতে অ্যান্ডি বার্নহাম কতটা সফল হন এবং ব্রিটেনকে কতটা রাজনৈতিক স্থায়িত্ব দিতে পারেন, এখন সেটাই দেখার।

