উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: যশরাজ ফিল্মসের (YRF) ‘স্পাইভার্স’-এর দুনিয়ায় নতুন সংযোজন শিব রাওয়াইলের ‘আলফা’ (Alpha film 2026)। তবে দুই নারী গুপ্তচরের গল্প নিয়ে তৈরি এই ছবি কি সত্যিই ফ্র্যাঞ্চাইজিটির নতুন দিগন্ত খুলে দিল? নাকি অতীতের জিংগোইজম বা উগ্র জাতীয়তাবাদের ছাঁচে নিজেকে খাপ খাওয়াতে গিয়ে হারিয়ে ফেলল নিজস্বতা? সমালোচকদের মতে, ছবিটিতে জিংগোইজমের প্রভাব স্পষ্ট, যা আদিত্য ধরের ‘ধুরন্ধর’ ঘরানার দেশাত্মবোধক সিনেমার অন্ধ অনুকরণ বলেই মনে হচ্ছে।
ছবির শুরুটা কার্গিল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে। কর্নেল বিক্রান্ত কাউল (অনিল কাপুর) এবং কর্নেল ফতেহ সিং লখাওয়াতের (ববি দেওল) হাত ধরে উঠে আসে ‘আলফা’ প্রজেক্টের ধারণা। যেখানে সাধারণ সেনাদের ‘সুপার-সোলজার’ বা শক্তিশালী মারণযন্ত্রে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করা হয়। এই প্রজেক্টের একমাত্র বেঁচে যাওয়া শিশু, সীতা (আলিয়া ভাট) (Alia Bhatt) বড় হয়ে এক দুর্ধর্ষ ঘাতক হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলে। কিন্তু চিত্রনাট্যের দুর্বলতা এখানেই—ছবিটি কোনোভাবেই একটি বড় বাজেটের অ্যাকশন মুভির ভার বহন করতে পারেনি।
সীতার চরিত্রে আলিয়ার অভিনয় এবং স্টাইল লারা ক্রফটের অনুপ্রেরণায় তৈরি হলেও, চরিত্রের গভীরতার অভাব বারবার চোখে পড়ে। অন্যদিকে, দুর্গা হিসেবে শর্বরী ওয়াঘের উপস্থিতি কেবল প্রযোজকের নিরাপত্তাহীনতারই পরিচয় দেয়। সীতার নিহিলিজম বা শূন্যতাবোধ এবং দুর্গার আশাবাদের মধ্যকার সংঘাতটিকে অত্যন্ত ‘বাইনারি’ বা একঘেয়েভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যদিও হৃত্বিক রোশনের বিশেষ উপস্থিতি এবং অ্যাকশন দৃশ্যগুলো ছবির সেরা অংশ, তবুও লড়াইয়ের দৃশ্যগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট শৈলী বা স্বকীয়তার অভাব ছিল।
সবচেয়ে হতাশাজনক হলো, স্পাইভার্সের চিরচেনা ভারসাম্যের বদলে এখানে আইএসআই (ISI)-কে নিয়ে যেভাবে উগ্র প্রচার চালানো হয়েছে, তা বর্তমানের রাজনৈতিক আবহ থেকে অনুপ্রাণিত বলেই মনে হয়। ‘পাকিস্তানি ফৌজি’ শব্দটিকে স্লারের মতো ব্যবহার করা কিংবা জিংগোইজমের আধিক্য ছবিটির মূল আবেদনকে ম্লান করে দিয়েছে।
পরিচালক শিব রাওয়াইলের পরিচালনায় আত্মবিশ্বাসের অভাব স্পষ্ট। বিশেষ করে দুই নায়িকাকে নিয়ে যে অ্যাকশন সেট-পিস সাজানো হয়েছে, তাতে ‘গার্ল পাওয়ার’-এর চেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে তথাকথিত বাণিজ্যিক চমক। অ্যাকশন কোরিওগ্রাফি অনেক ক্ষেত্রেই টাইগারের কোনো পরিত্যক্ত ছবির কথা মনে করিয়ে দেয়। আদিত্য চোপড়া ও শ্রীধর রাঘবনের এই প্রয়াস কি দর্শকদের মন কাড়তে পারবে? নাকি আদিত্য ধরের উগ্র জাতীয়তাবাদের অনুকরণ করতে গিয়ে স্পাইভার্স তার নিজস্ব মজাটাই হারিয়ে ফেলল? ছবিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। আলফা হয়তো ‘lesser of the evils’, কিন্তু অর্ধেক হৃদয়ে করা জিংগোইজম দর্শক যে গ্রহণ করবেন না, তা বলাই বাহুল্য।

