আলিপুরদুয়ার: উত্তরবঙ্গের জ্বালানি পরিকাঠামোয় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক ছুঁল আলিপুরদুয়ার (Alipurduar pipeline fuel)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চিত্তরঞ্জনপল্লিতে ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (BPCL)-এর হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো পাইপলাইন প্রাকৃতিক গ্যাস (PNG) পরিষেবা। মঙ্গলবার দেবযানী রায় ও পীযূষ কান্তি রায়ের বাড়িতে জেলার প্রথম সংযোগ প্রদানের মাধ্যমে এই প্রকল্পের বাস্তবায়নের সূচনা হলো।
কেন্দ্রীয় সরকারের ‘সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ছয় মাস ধরে ভূগর্ভস্থ পাইপ বসানো ও পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছিল। অবশেষে এদিন বিপিসিএল-এর আধিকারিকদের উপস্থিতিতে প্রথম গ্রাহকের বাড়িতে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। সংস্থার টেরিটরি ম্যানেজার পল্লব সাহ জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যে আলিপুরদুয়ার জেলায় ধাপে ধাপে প্রায় ৮ হাজার পরিবারকে এই পরিষেবার আওতায় নিয়ে আসা হবে।
এই প্রকল্পের ফলে রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমবে। গ্রাহকদের বারবার সিলিন্ডার বুকিং বা ডেলিভারির জন্য অপেক্ষা করার ঝক্কি পোহাতে হবে না। মিটার অনুযায়ী গ্যাসের ব্যবহার অনুযায়ী বিল পরিশোধের সুযোগ থাকায় স্বচ্ছতাও বজায় থাকবে। পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার শহুরে পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রথম উপভোক্তা হিসেবে দেবযানী রায় ও পীযূষ কান্তি রায় এই পরিষেবা পেয়ে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত। তাঁরা জানান, “সিলিন্ডার ফুরিয়ে যাওয়ার আতঙ্ক থেকে মুক্তি মিলবে, আর রান্নার কাজও অনেক সহজ হয়ে যাবে।” বিপিসিএল জানিয়েছে, নতুন গ্রাহকদের সুবিধার্থে আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন ফি সম্পূর্ণ মকুব করা হয়েছে। আগ্রহী গ্রাহকরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আবেদন করলে জরিপের মাধ্যমে বাড়িতে সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হবে।
নিরাপত্তার মান বজায় রাখতে প্রতিটি সংযোগ দেওয়ার আগে ও পরে একাধিক পর্যায়ে কঠোর পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। দেশের মেট্রো শহরগুলোতে এই পরিষেবা চালু থাকলেও, উত্তরবঙ্গের নতুন জেলা হিসেবে আলিপুরদুয়ারে এর সূচনা বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে। বারবার সিলিন্ডার বহনের পরিশ্রম থেকে মুক্তি ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি পরিষেবা পাওয়ার অপেক্ষায় এখন গোটা শহর। আলিপুরদুয়ারের এই আধুনিক জ্বালানি বিপ্লব আগামীদিনে অন্যান্য প্রান্তেও কতটা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, এখন সেটাই দেখার।
