দামিনী সাহা, আলিপুরদুয়ার: ২০২২ সালের মার্চে আলিপুরদুয়ার পুরসভায় (Alipurduar Municipality) নতুন বোর্ড গঠনের সময় শাসক শিবিরে উৎসাহ ছিল নজরকাড়া। হবে নাই বা কেন, ২০ জন কাউন্সিলারের মধ্যে ১৯ জনই যে তৃণমূল কংগ্রেসের। প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য যা যা দরকার, সবই শাসকের হাতে। কিন্তু চার বছর শেষ হতে চললেও, আজও গঠিত হয়নি স্ট্যান্ডিং কমিটি (Municipality Standing Committee)। স্ট্যান্ডিং কমিটির ভূমিকা কোনও আনুষ্ঠানিকতা নয়, গুরুত্বপূর্ণ অর্থ, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন, বিদ্যুৎ, পূর্ত বিভাগের কাজ সুষ্ঠুভাবে চালানোর জন্য এমন কমিটি অপরিহার্য। কিন্তু এক্ষেত্রে কোনও গুরুত্ব দেয়নি পুরসভা। ফলে একক সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল হয়ে পরেছে পুর পরিষেবা। তবে চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ করের দাবি, ‘আলিপুরদুয়ার পুরসভা ডি-গ্রেডের হওয়ায় স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রয়োজন নেই। জনসংখ্যা এক লক্ষের বেশি হলে গ্রেড বাড়ে, তখনই স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠনের বিষয় আসে।’ তবে পুর অলিন্দে যাঁদের দীর্ঘদিনের যাতায়াত, তাঁরা এমন দাবি মানতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, স্ট্যান্ডিং কমিটি কোনও গ্রেড বা জনসংখ্যার দয়া নয়, এটি পুরসভার নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা।
স্ট্যান্ডিং কমিটি না থাকায় প্রশাসনিক জবাবদিহির বিষয়টি জটিল হয়ে পড়েছে। কোনও দপ্তরের কাজে গাফিলতি হলে কার দায় নির্দিষ্ট করা যাচ্ছে না। ফলে নাগরিক পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধানও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একমাত্র বিরোধী কাউন্সিলার শান্তনু দেবনাথ বলছেন, ‘বোর্ড মিটিংয়ে একাধিকবার স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রস্তাব উঠেছে। কিন্তু চেয়ারম্যান রাজি নন। ১৯ জন কাউন্সিলার শাসকদলের হওয়া সত্ত্বেও কমিটি না হওয়ায় বোঝা যাচ্ছে, ভিতরের কোন্দল চাপা দিতে এই সিদ্ধান্ত। কমিটি হলে কে কোন দপ্তর পাবে, সেই প্রশ্নে শাসকদলের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসবে।’ চার বছরের মধ্যে স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠন না হওয়া কি প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, প্রশ্ন অনেকের। তাঁদের প্রশ্ন, এক দলীয় বোর্ড কি সত্যিই গণতান্ত্রিক চর্চাকে ভয় পাচ্ছে? নাকি তৃণমূল রাজনীতির অন্দরেই লুকিয়ে থাকা দ্বন্দ্ব ঢাকতেই এই ‘নো কমিটি’ নীতি? প্রাক্তন চেয়ারম্যান অনিন্দ্য ভৌমিক বলছেন, ‘আমাদের সময় স্ট্যান্ডিং কমিটি ছিল। নিয়ম মেনে কয়েকজন কাউন্সিলারকে বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হত। এতে কাজের জবাবদিহি থাকে।’ প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও বর্তমান ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার দীপ্ত চট্টোপাধ্যায় মনে করেন, ‘তিন থেকে পাঁচজন কাউন্সিলার নিয়ে স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠন হলে প্রতিটি বিভাগ ডিসিপ্লিনডভাবে চলে। সব কাজেই গতি আসে।’
