অভিজিৎ ঘোষ, আলিপুরদুয়ার: বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি, সরকারি অনুষ্ঠান হোক কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠান। আলিপুরদুয়ার শহরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শৌচাগার নিয়ে একটা সমস্যা থাকেই। সেটা অনেকটাই মিটতে চলেছে আলিপুরদুয়ার পুরসভার উদ্যোগে (Alipurduar Municipality)। অস্থায়ী শৌচাগার তৈরির সমস্যা মেটানোর জন্য আলিপুরদুয়ার পুরসভার পক্ষ থেকে বায়োটয়লেট ভ্যান কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ভ্যানগুলি দিয়ে একদিকে যেমন বিভিন্ন জায়গায় পরিষেবা দেওয়া যাবে, তেমনই পুরসভার আয়ও বাড়তে পারে বায়োটয়লেট ভ্যানগুলো ভাড়া দিয়ে।
পুরসভা সূত্রে খবর, এই মাসেই তিনটি বায়োটয়লেট ভ্যান কেনার টেন্ডার করা হবে। আর নতুন বছরের আগেই ভ্যানগুলো কেনার প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে আশাবাদী পুরসভা। এবিষয়ে পুরসভার চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ কর বলেন, ‘বায়োটয়লেট ভ্যান যে কেনা হবে সেব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গিয়েছে। ওই ভ্যানগুলো চলে এলে অনেক সমস্যা মিটবে। অস্থায়ীভাবে শৌচাগার তৈরি করে জায়গা নষ্ট হবে না।’
এদিকে, ইতিমধ্যেই পুরসভার হাতে একটি বায়োটয়লেট ভ্যান চলে এসেছে। এক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের আলিপুরদুয়ার শাখার পক্ষ থেকে পুরসভাকে ওই ভ্যান দেওয়া হয়েছে। তবে সেটা এখনও ব্যবহার করা শুরু হয়নি। পুরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই ভ্যানের গুণমান তেমন ভালো নয়। তাই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের আধিকারিকদের সেটা বদলে অন্য ভ্যান দিতে বলা হয়েছে। যদি নতুন ভ্যান দেওয়া হয়, তবে পুরসভার কাছে আগামী দু’মাসের মধ্যে চারটি বায়োটয়লেট ভ্যান চলে আসবে।
বর্তমান সময়ে এই বায়োটয়লেট ভ্যানগুলোর বিশেষ প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। প্রতিবছরই শহরের প্যারেড গ্রাউন্ডে ডুয়ার্স উৎসব হয়। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অনুষ্ঠান, মেলা তো লেগেই থাকে। যে কোনও অনুষ্ঠান হলে প্যারেড গ্রাউন্ডের বিভিন্ন জায়গায় অস্থায়ী শৌচাগার তৈরি করা হয়। এছাড়াও নির্বাচনের সময় প্যারেড গ্রাউন্ডে ডিসিআরসি করা হয়। সেই সময়ই একই সমস্যা দেখা যায় অস্থায়ী শৌচাগার নিয়ে।
একইরকম ছবি অন্যান্য জায়গায় আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলোতেও দেখা যায়। এতে পরিবেশের ওপর যেমন প্রভাব পড়ে তেমনই মাঠও নষ্ট হয় বলে বহুবার অভিযোগ উঠেছে। বায়োটয়লেট ভ্যান থাকলে সেই ভ্যানগুলো সেখানে দিলে সমস্যা অনেকটাই মিটে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়াও অস্থায়ী শৌচাগারে যে সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন থাকে সেটা বায়োটয়লেটের ক্ষেত্রে থাকে না। সেজন্যই শহরের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন।
প্যারেড গ্রাউন্ডের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংগঠনের সদস্য ভাস্কর মজুমদার বলেন, ‘এটা অবশ্যই ভালো সিদ্ধান্ত। বায়োটয়লেট ভ্যান প্রয়োজন রয়েছে।’ তবে তিনি আবার মনে করেন, তিনটি ভ্যান পর্যাপ্ত নয়। তাঁর কথায়, ‘পুরসভা যদি বাজেট বাড়িয়ে আরও বেশি ভ্যান কিনতে পারে তাহলে ভালো হয়।’
