দামিনী সাহা, আলিপুরদুয়ার: হাইকোর্টের রায়ে আলিপুরদুয়ার পুরসভার (Alipurduar Municipality) নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়ার পর নতুন করে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। সেই আবহেই মঙ্গলবার বোর্ড গঠনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বৈঠক ডাকার আবেদন জানিয়ে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মৌসুমি বাগচী বিশ্বাস, ৮ নম্বরের মিতালি মজুমদার এবং ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অরূপা রায় পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার ইউজেন মোক্তানের কাছে লিখিত আবেদন করেন। তবে আবেদন জমা পড়তেই আইনি ব্যাখ্যার নতুন লড়াই সামনে আসে।
পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, ‘পুর আইন অনুযায়ী নতুন বোর্ড গঠনের নির্ধারিত সময়সীমা ইতিমধ্যেই অতিক্রান্ত হয়েছে। সেই কারণে এই মুহূর্তে নতুন করে বোর্ড গঠন করা সম্ভব নয়। বিষয়টি বিস্তারিতভাবে নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দপ্তরকে জানানো হচ্ছে। রাজ্য সরকারই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে এবং সেই নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।’ অন্যদিকে কাউন্সিলারদের বক্তব্য, প্রশাসক দায়িত্বে থাকার সময় বাদ দিয়েই সময়সীমার হিসাব করতে হবে। তাঁদের দাবি, সেই হিসাব অনুযায়ী এখনও বোর্ড গঠনের সুযোগ রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ আলিপুরদুয়ার পুরসভার নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে প্রশাসক নিয়োগে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত বাতিল করে। পশ্চিমবঙ্গ পুর আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়। রায়ের পর থেকেই নির্বাচিত বোর্ড পুনর্বহাল এবং পরবর্তী প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়। সেই পরিস্থিতিতেই তিন কাউন্সিলার মঙ্গলবার বোর্ড গঠনের লক্ষ্যে বোর্ড মিটিং ডাকার আবেদন করেন। তাঁদের দাবি, হাইকোর্টের রায়ের পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে পুরসভার প্রশাসনিক স্তর থেকে ভিন্ন ব্যাখ্যা সামনে এসেছে।
কাউন্সিলারদের শিবির অবশ্য সেই ব্যাখ্যা মানছে না। ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শান্তনু দেবনাথ বলেন, ‘পুরসভার লিখিত উত্তরে বোর্ড গঠনের সময়সীমা অতিক্রান্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু আমরা সেই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নই। হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী প্রশাসক দায়িত্বে থাকার সময়টি বাদ দিয়েই সময়সীমার হিসাব করতে হবে। তাই আমাদের মতে, এখনও আইন অনুযায়ী বোর্ড গঠনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সুযোগ রয়েছে। বিষয়টি আমরা আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করছি এবং সম্পূর্ণ আইনি পথেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।’
আবেদনকারী কাউন্সিলারদের পক্ষে আইনজীবী বিক্রমাদিত্য ঘোষ বলেন, ‘সময়সীমার হিসাব করার ক্ষেত্রে প্রশাসক দায়িত্বে থাকার সময়টিকে বাদ দিয়েই বিষয়টি দেখতে হবে। সেই সময় বাদ দিলে আইন অনুযায়ী বোর্ড গঠনের জন্য যে সময় পাওয়া যায়, তা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। এই বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানিয়ে আমরাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠাচ্ছি।’
ফলে আদালতের রায়ের পরও আলিপুরদুয়ার পুরসভায় প্রশাসনিক জট কাটেনি। বরং বোর্ড গঠনের সময়সীমা নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন আইনি ব্যাখ্যায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই এখন সবার নজর।

