আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ারে মেডিকেল কলেজ (Alipurduar Medical Faculty) গড়ার জোরদার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সম্প্রতি রাজ্য থেকে মেডিকেল কলেজের জন্য জমি চিহ্নিত করার নির্দেশ এসেছিল। সেই নির্দেশ মেনে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর দু’তিনটি জায়গা চিহ্নিত করেছে। সবক’টি জায়গাই দেখা হয়েছে আলিপুরদুয়ার বিধানসভা এলাকা তথা আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল থেকে ন্যূনতম ১০ কিমির মধ্যে। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী জুলাই মাসের প্রথম দিকেই আলিপুরদুয়ারে আসবেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি জায়গাগুলি দেখে একটি জায়গা চূড়ান্ত করবেন বলে স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই মেডিকেল কলেজ গড়ার প্রস্তুতি শুরু হওয়ায় খুশি জেলার মানুষ।
জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘ন্যাশনাল মেডিকেল কাউন্সিলের গাইডলাইন বলছে— যে কোনও হাসপাতালের অন্তত ১০ কিমির মধ্যে মেডিকেল কলেজ তৈরি করা যেতে পারে। তাই আমরা জেলা হাসপাতালকে কেন্দ্র করে আলিপুরদুয়ার বিধানসভার মধ্যেই ওই জায়গা দেখছি। ইতিমধ্যে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর দুই থেকে তিনটি জায়গা চিহ্নিত করেছে।’ আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক পরিতোষ দাসের মন্তব্য, ‘ঠিক কোন জায়গাটিতে মেডিকেল কলেজ হবে, তা চূড়ান্ত করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাই আগাম আমরা কিছু বলছি না। তবে শহর সংলগ্ন এলাকাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে, এতটুকু বলতে পারি।’
আলিপুরদুয়ারে (Alipurduar) প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজ তৈরির জন্য যৌথভাবে জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অন্তত দুই থেকে তিনটি জায়গা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর দেখেছে। তবে প্রয়োজনে আরও কয়েকটি জায়গাও দেখা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের সূত্রে খবর, জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর ওই জমিও দেখার কাজ শুরু করেছে। তবে আলিপুরদুয়ার বিধানসভা এলাকায় যাতে মেডিকেল কলেজের জন্য জমি ফাইনাল হয়, তা দেখছে প্রশাসন। তাঁদের দাবি, ন্যাশনাল মেডিকেল কাউন্সিলের গাইডলাইন মেনেই আলিপুরদুয়ারে মেডিকেল কলেজ গড়া হবে।
গাইডলাইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, যে কোনও হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ চালু করার অনুমতি চাইতে পারে। তবে সেখানে ২৫ একরের ওপর জমি এবং মেডিকেল কলেজ থেকে হাসপাতালের দূরত্ব সর্বাধিক ১০ কিমির মধ্যে হতে হবে। পাশাপাশি, ইন্টার্নশিপের জন্য মেডিকেল কলেজে ৪২০টি শয্যা থাকতে হবে এবং সারাবছরে গড়ে অন্তত ৮০% বেডে রোগী ভর্তি থাকতে হবে। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, আলিপুরদুয়ার জেলায় এমন বড় হাসপাতাল আছে কেবল আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল ও ফালাকাটা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল। তবে প্রাধান্য পাচ্ছে জেলা হাসপাতাল। তাই জেলা হাসপাতাল থেকে ১০ কিমির দূরত্বের মধ্যেই যে মেডিকেল কলেজ গড়ে উঠবে, তা অন্তত চূড়ান্ত।
জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘ন্যাশনাল মেডিকেল কাউন্সিলের গাইডলাইন মেনে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালকে কেন্দ্র করেই মেডিকেল কলেজ গড়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এখানে ছাত্রছাত্রী এবং ইন্টার্নদের হস্টেল এবং ট্রেনিং হাসপাতাল একটি একক ক্যাম্পাসেই করা সম্ভব হবে। এছাড়াও হাসপাতালে বেডের বিষয়টিও আছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য সরকার।’

