নৃসিংহপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়, বারবিশা : সময় বদলায়। একটা সময় আলিপুরদুয়ার দাপিয়ে বেড়িয়েছেন জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি শীলা সরকার। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জনপ্রতিনিধির পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কর্মব্যস্ততার জেরে পরিবারকেই সময় দেওয়া হয়ে উঠত না। সেই তিনি এখন রাজনীতি ভুলে সাহিত্যচর্চায় মন দিয়েছেন। হঠাৎ কেন রাজনীতির প্রতি এমন অনীহা? এনিয়ে জনমানসে কৌতূহল রয়েছে প্রচুর। নানা চর্চাও রয়েছে। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের একাংশ তো বটেই, আমজনতারও একটি বড় অংশ মনে করেন ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল জেলা পরিষদ আসনের লড়ার টিকিট না দেওয়ায় কার্যত অভিমানে শীলা ধীরে ধীরে নিজেকে রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেন।
স্নাতক শীলা কলেজ জীবনে ছাত্র পরিষদের সমর্থক ছিলেন। ২০০৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর এলাকার বরিষ্ঠ সিপিএম নেতা বীরেন্দ্রকিশোর সরকারের হাত ধরে তাঁর বাম রাজনীতিতে যোগ। ২০১৩ সালে সিপিএমের টিকিটে জয়ী হয়ে অবিভক্ত জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সদস্য হন। আলিপুরদুয়ার জেলা ঘোষণার পর আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদ গঠনের সময় রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরে যায়। ২০১৪ সালের অগাস্টে সৌরভ চক্রবর্তীর হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন শীলা। দলবদলেই জেলা পরিষদের মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ পদে বসেন। ২০১৭ সালে জেলা তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী হন। ২০১৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৮ সালে তৃণমূলের টিকিটে ফের জয়ী হয়ে জেলা পরিষদের সভাধিপতির দায়িত্ব পান। দলের জেলা কমিটিতেও জায়গা করে নেন। ছন্দপতন ঘটে ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে। দল টিকিট দেয়নি তাঁকে। এর কয়েক মাস পর থেকেই দলের নানা কাজে শীলাকে দেখা যায়নি। রাজনৈতিক মিছিল, সভার পরিবর্তে তাঁকে দেখা গিয়েছে কবিবন্ধু সাহিত্যের আড্ডায়। শীলার কথায়, ‘সাহিত্যচর্চা করে বেশ ভালো আছি। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সব অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারছি। বাধ্যবাধকতা এবং নেতাদের চাপও নেই। সাধারণ মানুষের সঙ্গে খোলা মনে কথা বলতে পারছি।’
কেন হঠাৎ রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে শীলার জবাব, ‘দলের অন্দরে একাধিক লবি। রাজনীতি করতে গিয়ে ইঁদুর দৌড় সম্ভব নয়। জেলায় দলের কান্ডারিরা এসব নিয়ে ভাবেন না। সাংগঠনিক শ্রীবৃদ্ধি নিয়ে তাঁদের ভাবার অবকাশ নেই। দলের ভেতরে কে কার পেছনে লাগবে? কীভাবে ক্ষতি করবে সেই ফন্দি আঁটতেই ব্যস্ত। ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গিতে রাজনীতি হয় না।’ তাঁর আরও সংযোজন, ‘জেলা স্তরে মহিলাদের গুরুত্ব কম। মিটিং, মিছিলে ভিড় বাড়ানোর জন্যই মহিলাদের ডাকা হয়। সাংগঠনিক কাজকর্মের পদ্ধতি বা নীতি নির্ধারণে নয়। রাজ্য স্তরের নেতা এলে গঠনমূলক আলোচনার থেকে ফোটোসেশন আর সভামঞ্চের আসনে বসার প্রতিযোগিতা চলে। বাকবিতণ্ডা এড়াতে তাই দূরত্ব বজায় রেখে চলছি। কবিতা লেখা, কবিতা পাঠ নিয়ে বেশ ভালো আছি। মানসিক শান্তি পাচ্ছি।’
