Alipurduar | নাচের দলে নাম লেখাতে ঘরছাড়া

Alipurduar | নাচের দলে নাম লেখাতে ঘরছাড়া

শিক্ষা
Spread the love


প্রণব সূত্রধর, আলিপুরদুয়ার: এলাকার একটি নির্দিষ্ট অংশে মঞ্চ বাঁধা। রাত নামতেই জমাটি আসর। হিন্দি সিনেমার ‘আইটেম সং’ বাজছে বেশ জোরে। মঞ্চে হরেকরকম আলোর মেলা। স্বল্প পোশাকে গানের ছন্দে তাল মিলিয়ে কোমর দোলাচ্ছে অল্পবয়সি কয়েকটি মেয়ে। শহর বা শহর লাগোয়া কোলাহল ছাড়িয়ে প্রত্যন্ত কিছু এলাকায় এমন দৃশ্য বেশ পরিচিত। যারা নাচছে তাদের বেশিরভাগই নাবালিকা। কিছু ক্ষেত্রে লোভনীয় রোজগারের আশায় আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে আসার টানে নানা এলাকার নাবালিকাদের এই ধরনের নাচের দলে যোগদান করার প্রবণতা বাড়ছে।

পুলিশ ও সিডব্লিউসি সূত্রে জানা গিয়েছে, আলিপুরদুয়ার জেলার (Alipurduar) কুমারগ্রাম ও কালচিনি ব্লকের একাধিক জায়গায় নাবালিকাদের নিয়ে এরকম বিশেষ কিছু নাচের দল তৈরি হয়েছে। পুজোর মরশুম শুরু হতেই নানা এলাকার অনুষ্ঠানে গিয়ে নাচার জন্য তাদের ডাক পড়ে। নাবালিকাদের সেই নাচের চাহিদাও রয়েছে। জেলার প্রান্তিক এলাকাগুলিতে কিংবা চা বাগানের বিভিন্ন জায়গার নাবালিকা মেয়েরা অর্থ উপার্জনের জন্য নিজেরাই নাচের দলে যোগ দেয়। একটি অনুষ্ঠান করলে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত মেলে। বিশেষ করে কুমারগ্রাম এলাকায় এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সেখানে একটি দল সক্রিয় হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, দলের সদস্যরা বিভিন্ন এলাকা থেকে নাবালিকাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নাচের দল তৈরি করে। এই দলগুলির সঙ্গে কালচিনি, বীরপাড়া প্রভৃতি জায়গার অন্যান্য দলেরও সংযোগ থাকে।

বিভিন্ন জায়গার অনুষ্ঠান আয়োজকদের সঙ্গে মোটা অঙ্কের চুক্তি হয়। জেলার বিভিন্ন জায়গার অনুষ্ঠান ছাড়াও অন্যান্য জেলা কিংবা ভিনরাজ্যেও নাচের জন্য নাবালিকাদের নিয়ে যাওয়া হয়। বিশেষ করে পুজোর পর বিহারে এসবের চাহিদা বাড়ে। এছাড়াও অসমেও নাবালিকাদের নিয়ে যাওয়া হয়। অনেকক্ষেত্রে অভিভাবকরাও এসব বিষয়ে কিছু জানতে পারেন না।

সম্প্রতি কুমারগ্রামের এক নাবালিকা এরকমই একটি নাচের অনুষ্ঠানে গিয়েছিল। তবে যেদিন তার বাড়ি ফেরার কথা সেদিন রাত পর্যন্ত মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি নাবালিকার মা। পরে তিনি পুলিশের কাছে গিয়ে মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ কোচবিহার থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে সিডব্লিউসি-র হাতে তুলে দিয়েছিল।

এবিষয়ে সিডব্লিউসি-র চেয়ারম্যান অসীম বসু বলেন, ‘বিভিন্ন সময় নানা কারণে নাবালিকাদের উদ্ধার করা হয়। তবে সম্প্রতি নাচের দলে যাওয়ার নাম করে অনেকে ঘর ছাড়ছে। শিশুশ্রম আইনে বিষয়গুলি দেখা হচ্ছে।’ এর আগে কালচিনি ব্লকের এক নাবালিকাকেও বিহারের একটি নাচের অনুষ্ঠান থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল।

চলতি বছর পুজোর আগে এধরনের নাচের অনুষ্ঠানে অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ এনে কয়েকটি আদিবাসী সংগঠন সরব হয়েছিল। নাচের অনুষ্ঠান বন্ধের দাবি জানিয়ে তারা পুলিশের কাছে স্মারকলিপিও প্রদান করে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *