Alipurduar | বালি-পাথরের অবৈধ কারবার, তৃণমূলের পথেই হাঁটছে বিজেপি 

শিক্ষা
Spread the love


অভিজিৎ ঘোষ, আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ার (Alipurduar)-১ ব্লকের এক প্রভাবশালী তৃণমূল (TMC) নেতার নাম বারবার জড়িয়েছে বালি ও পাথরের বেআইনি কারবারে। বৈধ ব্যবসার আড়ালে ওই নেতা এবং তাঁর অনুগামীরা অবৈধ কারবার চালাচ্ছিলেন বলে এতদিন অভিযোগ করে এসেছে বিজেপি (BJP)। কিন্তু রাজ্যে পালাবদল ঘটতেই ওই তৃণমূল নেতার জায়গায় একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে বিজেপিরই নেতাদের মধ্যে যেন প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গিয়েছে। কাঁচা পয়সা পকেটে ভরতে বালি-পাথরের কারবারে নেমে পড়েছেন বহু বিজেপি নেতা। ফলে তৃণমূলের পথেই বিজেপি নেতাদের এই ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয় দলের নিষ্ঠাবান অংশ ও সাধারণ কর্মীরা। সাধারণ মানুষের মুখেও এখন একটাই প্রশ্ন, ‘তাহলে কি দুই দলই সমান?’

বর্তমানে আলিপুরদুয়ার জেলাজুড়ে বালি ও পাথরের ব্যবসার মারাত্মক রমরমা। বৈধ কারবারের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় চলছে বেআইনি তোলাবাজি ও অবৈধ কারবার। তা রীতিমতো প্রশাসনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের অভিযান চললেও অবৈধ কারবার বন্ধ হচ্ছে না। রাতারাতি ‘বড়লোক’ হওয়ার স্বপ্নে মেতে উঠছেন স্থানীয় নেতাদের একাংশ। যদিও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এই বেআইনি কর্মকাণ্ডকে রেয়াত করছে না।

এবিষয়ে জেলা বিজেপির সভাপতি মিঠু দাসের বক্তব্য, ‘আমাদের দল কোনও অবৈধ কাজকে সমর্থন করে না। বৈধভাবে যে কোনও ব্যবসা চলতে পারে। তবে অবৈধভাবে কেউ ব্যবসা করলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে সেখানে দল দেখা হবে না।’

শীর্ষ নেতৃত্ব যা-ই বলুক না কেন, সরকার গঠনের পর থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি নেতাদের সিন্ডিকেটে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। নদী থেকে তোলা মাটির পাশাপাশি মহাসড়কের কাজের মাটিকে কেন্দ্র করেও শুরু হয়েছে নতুন ব্যবসা। সলসলাবাড়ি থেকে ফালাকাটা মহাসড়কে মাটি দেওয়ার নামে আগে যেমন তৃণমূল নেতারা গাড়ি ভাড়া দিতেন, এখন বিজেপির নেতারাও একই পথ ধরেছেন। অনেক ক্ষেত্রে এক নদীর রয়্যালটি দেখিয়ে অন্য নদীর বালি-পাথর তোলা হচ্ছে কিংবা একটি মৌজার রয়্যালটি দিয়ে অন্য মৌজায় চলছে কারবার।

এমনকি, অনেক ক্ষেত্রে রয়্যালটি ছাড়াই সোজাসুজি নদী থেকে বালি পাচার করা হচ্ছে। অভিযোগ, রয়্যালটি চড়া থাকার অজুহাতে এবং শ্রমিকদের কাজের ব্যবস্থার দোহাই দিয়ে একাংশ নেতা এই বেআইনি কাজকে ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। একসময় এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা বিজেপি নেতারা নিজেরাই এখন এই চক্রে জড়িয়ে পড়ায় জেলাজুড়ে নানাবিধ প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *