অভিজিৎ ঘোষ, আলিপুরদুয়ার: দমনপুর পার করেই বক্সা ব্যাঘ্র-প্রকল্পের (Buxa Tiger Reserve) মূল জঙ্গল রাস্তার দুই ধার দিয়ে। আর সেখানে পড়ে রয়েছে মদের বোতল, প্লাস্টিকের বোতল, প্যাকেট সহ বিভিন্ন আবর্জনা। একই ছবি রাজাভাতখাওয়া থেকে কালচিনি যাওয়ার রাস্তাটাতেও। ডিমা নদীর সৌন্দর্য দেখতে এসে অনেকেই আবর্জনা, মদের বোতল ফেলে যাচ্ছেন। এখানেই শেষ নয়, চিলাপাতা থেকে কোদলবস্তি যাওয়ার রাজ্য সড়কের দু’ধারেও একইরকম দৃশ্য। বিগত দুই সপ্তাহ ধরে পর্যটক সহ পিকনিক দলের ভিড় বাড়তেই আবর্জনা ফেলার হিড়িকও বেড়েছে। অন্যদিকে, পিকনিকের নামে আলিপুরদুয়ারের (Alipurduar) বিভিন্ন জায়গায় সংরক্ষিত জঙ্গলের পাশে বসছে মদের আসর। যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ জমেছে।
এই পরিস্থিতিতে বন দপ্তর, পুলিশের ভূমিকায় উঠছে প্রশ্ন। সোমবার এব্যাপারে বক্তব্য জানতে বক্সা ব্যাঘ্র-প্রকল্পের ডিএফডি (পূর্ব) দেবাশিস শর্মাকে ফোন করা হলেও উত্তর মেলেনি। তবে বনকর্তারা জানাচ্ছেন, বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি রয়েছে। বক্সার এক বনকর্তার কথায়, ‘যেদিন পর্যটকদের বেশি ভিড় থাকে, সেদিন জঙ্গলে বেশি নজরদারি থাকে।’ অন্যদিকে, আলিপুরদুয়ারের ডিএসপি (ট্রাফিক) শান্তনু তরফদারের মন্তব্য, ‘এই সময় বাড়তি নজরদারি চলছে। বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ গাড়িচালকদের সতর্ক করছে। মদ্যপান করে গাড়ি চালাচ্ছে কি না, সেটাও দেখা হচ্ছে।’ বন দপ্তর ও পুলিশ নজরদারির কথা বললেও একদিকে যেমন জঙ্গলের পাশে যেমন মদের বোতল, আবর্জনা ফেলা বন্ধ হচ্ছে না তেমনই মদের আসরও বন্ধ হচ্ছে না।
বিশেষ করে ২৫ ডিসেম্বর থেকে এই ঘটনা আরও বেশি বেড়েছে। কেউ গাড়িতে বসে মদ সহ বিভিন্ন খাবার খেয়ে রাস্তার পাশে আবর্জনা ফেলছেন। কেউ আবার মদের আসর বসাচ্ছেন সংরক্ষিত এলাকায়। চিলাপাতা, মাদারিহাটে, রাজাভাতখাওয়া জঙ্গলের পাশেই মদের আসর বসছে বলে অভিযোগ। জয়ন্তী নদীবক্ষে বসেও মদ্যপান চলছে। এসব বর্জ্য থেকে একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা, তেমনই ক্ষতি হতে পারে বুনোদেরও। বিশেষ করে হাতির করিডরে আবর্জনা ফেলায় অনেকেই উদ্বিগ্ন। আলিপুরদুয়ারের পরিবেশকর্মী জীবনকৃষ্ণ রায় বলেন, ‘পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কিছু করে আনন্দ করা উচিত নয়। পরিবেশ বাঁচিয়ে আনন্দ করা হোক।’ আরেক পরিবেশকর্মী অরিজিৎ মালাকারের কথায়, ‘যেখানে-সেখানে এভাবে মদের আসর বসানো অবৈধ কাজ। জঙ্গলের মধ্যে তো মদের বোতল, প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা উচিতই নয়। বন দপ্তরের পদক্ষেপ দরকার।’
