সুভাষ বর্মন, শালকুমারহাট: নেশার টাকা নিয়ে মায়ের সঙ্গে বচসার পরে রাগে মায়ের ঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল ছেলের বিরুদ্ধে। সোমবার রাতে আলিপুরদুয়ার-১ (Alipurduar) ব্লকের শালকুমার-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের কলাবাড়িয়া গ্রামের এমন ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। খবর পেয়ে রাতেই অভিযুক্ত ছেলে মধুসূদন ছেত্রীকে সোনাপুর ফাঁড়ির পুলিশ গ্রেপ্তার করে৷ অভিযোগ, মধুসূদন নেশার টাকা জোগাড় করার জন্য গোপনে মা চকমায়া ছেত্রীর কিছু চেরাই কাঠ বিক্রি করে। এজন্য মা তাকে বকাবকি করেন। তার জেরে ছেলে রাতে মায়ের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। ফলে বৃদ্ধার একমাত্র টিনের ঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে ষাটোর্ধ্ব মহিলা সহায়সম্বলহীন হয়ে পড়লেন। গোটা ঘটনায় প্রতিবেশীরা হতবাক। সকলেই অভিযুক্তের কড়া শাস্তি চাইছেন। সোনাপুর ফাঁড়ির পুলিশ (Police) জানিয়েছে, অভিযুক্তকে মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হয়। এর আগেও অভিযুক্ত মধুসূদন মথুরা চা বাগান এলাকায় নেশা করে ঝামেলা করেছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। রাতে অবশ্য দমকলকে খবর দেওয়া হয়নি। প্রতিবেশীরাই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত মধুসূদন মদ ও গাঁজার নেশায় আসক্ত। সে কোনও কাজ করে না। তার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে স্ত্রীও বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু ছেলেকে ছাড়তে পারেননি ষাটোর্ধ্ব মা চকমায়া। সোমবার নিজের বাড়িতেই মায়ের সঙ্গে মধুসূদনের ঝামেলা হয়। ঘরের কাজের জন্য চকমায়া কিছু চেরাই করা কাঠ রেখেছিলেন। সেই কাঠই বিক্রি করে নেশা করে ছেলে। সেই নিয়ে মা বকাবকি করতেই রাতে হঠাৎ দাউদাউ করে ওই প্রৌঢ়ার ঘর জ্বলতে থাকে। তিনি কোনওরকমে প্রাণে বাঁচেন৷ অগ্নিকাণ্ডের সময় ছেলেও নিজের ঘরে শুয়েছিল। চকমায়ার কথায়, ‘আমার ছেলেই ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। নেশা করে সে এরকম করেছে। আমি এখন চাই যে, ওর শাস্তি হোক।’
খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে শালকুমার-২ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সঞ্জয় রাভা চকমায়ার সঙ্গে দেখা করেছেন৷ তাঁর কথায়, ‘গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ত্রিপল, বস্ত্র ও কিছু খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হল। প্রয়োজন হলে আরও সহযোগিতা করা হবে।’ কলাবাড়িয়া গ্রামে তৃণমূলের শালকুমার-২ অঞ্চল সভাপতি মুকুলচন্দ্র বর্মন ওই মহিলার বাড়ির পাশেই থাকেন। তিনি বলেন, ‘ওই প্রৌঢ়ার ঘরের অধিকাংশই পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। মধুসূদনকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যা। কিন্তু এবার নেশার টাকার জন্য মায়ের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার বিষয় মেনে নেওয়া যায় না। তাই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। তা না হলে আগামীদিনে সে গ্রামের আরও অনেকের ক্ষতি করতে পারে।’ এদিন অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন আরেক গ্রামবাসী তসবির আহমেদও। তিনি বলেন, ‘বৃদ্ধার ছেলে সবসময় মদ ও গাঁজার নেশা করে। ওর জন্য আমরা অতিষ্ঠ।’
