শামুকতলা: নিকাশিনালায় মিলল ভোটার কার্ড। তাও একটা নয়, ৪০টা। আলিপুরদুয়ারের (Alipurduar) শামুকতলার (Samuktala) বিধাননগরে বুধবারের এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়। গুরুত্বপূর্ণ এই সরকাির নথিগুলো কোথা থেকে এল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ (Police)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে নিকাশিনালা পরিষ্কারের হয়নি। কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন এলাকার নালাগুলো পরিষ্কারের কাজ চলছে। এদিন বিধাননগরে ওই কাজ চলাকালীন শ্রমিকদের নজরে আসে একগুচ্ছ ল্যামিনেট করা পরিচয়পত্র। পরে সেগুলি তুলে দেখা যায়, সেগুলি ভোটার কার্ড। ঘটনা জানাজানি হতে ঘটনাস্থলে ভিড় জমে যায়। অনেকেরই প্রশ্ন, এতগুলি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিচয়পত্র একসঙ্গে নালায় এল কীভাবে? অসাবধানতাবশত পড়ে গিয়েছে, নাকি পরিকল্পিতভাবে ফেলে দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কিন্তু অনেকে এটাও বলছেন, একটা-দুটো হলে অসাবধানে পড়ার কথা ভাবা যেত, এতগুলো ভোটার কার্ড একসঙ্গে নালায় এল কী করে?
খবর পেয়ে শামুকতলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার হওয়া ভোটার কার্ডগুলো নিজেদের হেপাজতে নেয়। পরে সেগুলি থানায় নিয়ে গিয়ে নথিভুক্ত করা হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ভোটার কার্ডগুলি শামুকতলা, কোহিনুর, মহাকালগুড়ির বাসিন্দাদের।
প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া প্রতিটি ভোটার কার্ডের প্রকৃত মালিকের পরিচয় যাচাই করা হবে। কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে পরিচয়পত্রগুলি নালায় পৌঁছাল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে নির্বাচন দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পদক্ষেপ করা হবে। ঘটনার সঙ্গে কোনও অনৈতিক উদ্দেশ্য জড়িত রয়েছে কি না, সেই দিকটিও তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাটি নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে এলাকাতেও। স্থানীয় সরস্বতী দাস বললেন, ‘এতগুলো ভোটার কার্ড একসঙ্গে নালায় পাওয়া গিয়েছে, সেটা শুনে একটু অবাক হয়েছিলাম। পুলিশ ঠিক করে দেখুক, কার্ডগুলো আসল নাকি নকল।’
ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকার বিজেপি নেতা রিন্টু গুনও। তিনি বললেন, ‘বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের এতগুলি ভোটার কার্ড একসঙ্গে নিকাশিনালায় কী করে এল? এর পেছনে নিশ্চয় কোনও রহস্য আছে।’

