প্রণব সূত্রধর, আলিপুরদুয়ার: কারও দাবি সংখ্যাটা শূন্য। কেউ বলছে কয়েক বছর ধরে সংখ্যাটা ২। আবার গতবছর পোর্টালে পড়ুয়া দেখা গিয়েছিল ১। তবে যে যাই বলুক সূর্যনগর নেতাজি শিশুনিকেতন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়ার সংখ্যা যে কমতে কমতে তলানিতে ঠেকেছে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আর সেই হাতেগোনা পড়ুয়াও যখন আসে না স্কুলে তখন ফাঁকা বিদ্যালয়ে বসে থাকতে হয় একজন শিক্ষক ও শিক্ষিকাকে (Alipurduar)।
পড়ুয়াদের স্কুলমুখী করতে যে একেবারে কোনও পদক্ষেপ করেনি স্কুল কর্তৃপক্ষ সেরকম নয়। নেতাজি শিশুনিকেতনের প্রধান শিক্ষক পঙ্কজ দে বলছেন, ‘পড়ুয়াদের বাড়ি গিয়ে ভর্তির জন্য অনুরোধ করা হয়। এবার এসএসকে এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের সহযোগিতা নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছি।’
তবে ঠিক কী কারণে পড়ুয়া সংখ্যা কমেছে স্কুলে সেই প্রশ্ন উঠছে। প্রধান শিক্ষকের দাবি, সরকারি স্কুলে ইংরেজিমাধ্যম চালু হতেই পড়ুয়াদের সেখানে ভর্তি করাচ্ছেন অভিভাবকরা। আর এতেই পড়ুয়া কমছে। এই যেমন সংলগ্ন ম্যাক উইলিয়াম আরআর প্রাথমিক বিদ্যালয় ইংরেজিমাধ্যমের অনুমোদন পেয়েছে। তারপর থেকেই নেতাজি শিশুনিকেতন থেকে মুখ ফিরিয়েছেন অভিভাবকরা। বর্তমানে ম্যাক উইলিয়াম আরআর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া সংখ্যা ৩৬৫।
একসময় নেতাজি শিশুনিকেতনের চিত্রটা একেবারে আলাদা ছিল। একসময় পড়ুয়ার সংখ্যা ছিল শতাধিক। সেই সংখ্যা কমতে কমতে দুজন পড়ুয়ায় এসে ঠেকেছে। স্কুলটিতে সেরকম কোনও সমস্যাও নেই। একটা ঠিকঠাক পরিকাঠামো বলতে যা বোঝায় সেসবই রয়েছে। বিদ্যালয়ের সামনে খেলাধুলোর বড় মাঠ রয়েছে। শ্রেণিকক্ষ ও মিড-ডে মিলের জন্য পাকা ঘর রয়েছে। পর্যাপ্ত চেয়ার ও টেবিল রয়েছে। তবে এক-দুজন পড়ুয়ার জন্য মিড-ডে মিল রান্নার আয়োজন করতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
ডিপিএসসি এর আগে হাতেগোনা পড়ুয়া রয়েছে এমন বিদ্যালয়ের তালিকা তৈরি করে পড়ুয়া সংখ্যা বৃদ্ধির বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিল। সেইমতো প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশ দিয়েছিল। তা সত্ত্বেও কয়েক বছর ধরে কেন পরিস্থিতি বদলায়নি তা ভাবাচ্ছে।
এছাড়া স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বর্ষাকালে ওই স্কুল চত্বর জলমগ্ন হয়ে যায়। ফলে সেসময় পড়ুয়াদের যাতায়াতে সমস্যায় পড়তে হয়। পড়ুয়া কম থাকায় অনেক সময় একজন শিক্ষক উপস্থিত থাকেন। এতে অভিভাবকদের মধ্যেও বিরূপ প্রভাব পড়ে।
ডিপিএসসি’র চেয়ারম্যান পরিতোষ বর্মন বলেন, ‘যেসব স্কুলে পড়ুয়া সংখ্যা কম সেসব স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও এসআইদের নিয়ে বৈঠক করা হবে।’
