আলিপুরদুয়ার : ক্লাবের তরফে আয়োজিত শীতকালীন মেলায় রমরমিয়ে চলছে জুয়ার আসর। আলিপুরদুয়ার জংশন এলাকার ঘটনা। অভিযোগ, এর পেছনে তৃণমূলের একাংশ স্থানীয় নেতার মদত রয়েছে। সময়মতো বখরা পৌঁছে যাচ্ছে তাঁদের কাছে। ঘটনাকে ঘিরে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন মেলা কমিটির ভূমিকা নিয়ে। বাসিন্দারা পুলিশের কাছে পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন। যদিও ক্লাব তথা মেলা কমিটির অন্যতম সদস্য শুভজিৎ মজুমদারের সাফাই, ‘অন্য মেলার মতো এখানে লাকি কুপনের খেলা হচ্ছে। জুয়ার আসর বসেনি। এমন কোনও অভিযোগ এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এবিষয়ে আলিপুরদুয়ার জংশন ফাঁড়ির ওসি সোনা লামাকে ফোন করা হলেও তাঁর প্রতিক্রিয়া মেলেনি। আলিপুরদুয়ারের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (এসডিপিও) শ্রীনিবাস এমপির বক্তব্য, ‘এমন কোনও অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি দেখা হবে।’
জংশন এলাকার ইনস্টিটিউট মাঠে আগেও মেলা অনুষ্ঠিত হত। তবে মাঝখানে চার-পাঁচ বছর বন্ধ ছিল। চলতি বছর ফের শীতকালীন মেলার আয়োজন করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই মেলা হচ্ছে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তা চলছে। চারদিকে ঘেরা মেলায় দোকানপাটের সংখ্যা বেশি নয়। সাকুল্যে পঁচিশটি। এছাড়াও শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মেলায় রমরমিয়ে চলছে জুয়ার আসর। সেজন্য পরিবার নিয়ে মেলায় যেতে অনেকেই সংকোচ বোধ করছেন।
মঙ্গলবার সকালের দিকে মেলায় ঢুঁ মেরে দেখা গেল, বহালতবিয়তে চলছে জুয়া। আবার সন্ধ্যায় দেখা গেল, আসরে লোকজনের ভিড়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড়ও বাড়ছিল। তরুণ থেকে প্রৌঢ়- আসরে দেখা গিয়েছে বিভিন্ন বয়সিকে। আসরে যুক্ত একজন আলাপচারিতায় জানাল, মেলা প্রাঙ্গণে কারা ঢুকছেন, বের হচ্ছেন, তাঁদের উপর নজর রাখা হয়।
এদিন রাত আটটা নাগাদ মেলায় ঢুকে সাতটি জুয়ার বোর্ড চোখে পড়ল। নাগরদোলার কাছাকাছি রয়েছে লাকি কুপনের দোকান। আর তার ঠিক উলটো দিক থেকে পরপর রয়েছে জুয়ার বোর্ড। সাতটি বোর্ডের ছয়টিতেই লোকজন ছিল। অল্পবয়সিরাও সেখানে ভিড় করছে। এনিয়ে অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রৌঢ় বললেন, ‘যেভাবে মেলায় প্রকাশ্যে জুয়ার আসর চলছে, তাতে সন্তানদের নিয়ে মেলায় আসাই দায়। এতে শিশুমনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।’ অনেকেই বলছেন, পুলিশ ও শাসকদলের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মদত ছাড়া এভাবে জুয়ার আসর চলতে পারে না।
তৃণমূলের বিবেকানন্দ-১ অঞ্চল সভাপতি দেবব্রত মোদকের বক্তব্য, ‘জুয়ার আসর বসছে কি না, সেই বিষয়ে মেলা কমিটির সঙ্গে কথা বলা হবে। একটি ক্লাব মেলার আয়োজক। সেখানে শাসকদলের কোনও যোগ নেই।’ যদিও জুয়ার আসর বসার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে মেলা কমিটি।
