অভিজিৎ ঘোষ, আলিপুরদুয়ার : দুর্গাপুজোর আগে থেকেই আলিপুরদুয়ারে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদার জুলুমের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি জাতীয় সড়কেও লাঠি নিয়ে চাঁদা তোলার ছবি দেখা গিয়েছে। আর কালীপুজোর আগে জেলার সড়কে সেই চাঁদা নিয়ে জুলুমবাজির ছবি ফিরে এসেছে। কালীপুজোর চাঁদা আদায়ে বিভিন্ন জায়গায় গাড়িচালকদের হুমকি দেওয়া এবং মারধর করার অভিযোগও উঠছে। গত বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের মনেয়ারপুল এলাকায় এক লরিচালককে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পর গাড়িচালকদের সংগঠন, অল বেঙ্গল ড্রাইভার মহাসংঘের পক্ষ থেকে আলিপুরদুয়ার থানার সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। রবিবার ওই সংগঠনের সদস্যরা আলিপুরদুয়ার থানার আইসি’র সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। তবে আইসি মুখ্যমন্ত্রীর সফর নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি।
ওই সংগঠনের জেলা নেতা সুব্রত সরকারের কথায়, ‘গাড়িচালকদের বিভিন্ন জায়গায় মারধর করা হচ্ছে। এটা ঠিক নয়। চালকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। আমাদের দাবি, যেখানে চাঁদার জুলুম হবে সেখানেই যেন পুলিশ গিয়ে কড়া ব্যবস্থা নেয়।’
মনেয়ারপুলে একটি আলুবোঝাই গাড়ির চালকের কাছে প্রথমে টাকা চাওয়া হয়। চাঁদা না দেওয়ায় চালককে মারধর করা হয় এবং টাকা ছিনতাই করা হয় বলেও অভিযোগ। মারের চোটে গাড়ির চালকের মুখে ও কানে সেলাই পড়েছে। এদিন ওই চালক বলেন, ‘ওই রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করি। আমি বলেছিলাম রবিবার চাঁদা দিয়ে যাব। সেটা বলার পরই তিনজন মিলে মারধর করে এবং গাড়িতে রাখা মালিকের টাকা ছিনিয়ে নেয়। শুক্রবার ওই ঘটনা নিয়ে থানায় অভিযোগ করি। এখনও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।’
আলিপুরদুয়ার জেলার বিভিন্ন এলাকায় কালীপুজোর আগে চাঁদার জুলুম বেড়েছে। বিশেষ করে ট্রাক, লরি, পণ্যবোঝাই ছোট গাড়ি, পোলট্রিবোঝাই গাড়ির উপর সেই জুলুম বেশি করে হচ্ছে বলে অভিযোগ। এদিন গাড়িচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, কামাখ্যাগুড়ি-তুফানগঞ্জ রাজ্য সড়ক, চেকো রাজ্য সড়ক, আলিপুরদুয়ার-ফালাকাটা জাতীয় সড়ক, মাদারিহাট-বারবিশা সড়কের বিভিন্ন জায়গায় গাড়ি আটকে চাঁদা তোলা হচ্ছে। জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়কের সঙ্গে গ্রামের ছোট রাস্তাগুলোতেও চাঁদা তোলার দাপট দেখা যাচ্ছে।
দুর্গাপুজোর তুলনায় কালীপুজোয় নাকি চাঁদাবাজদের দাপট বেশি। কারণ, জেলায় প্রচুর কালীপুজো হয়। তাছাড়া, দুর্গাপুজোয় রাজ্য সরকারের অনুদান থাকায় ক্লাবগুলোকে আগেই থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা হয় ও চাঁদা তোলা নিয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। কালীপুজোয় সেই নিয়ন্ত্রণ কম থাকায় চাঁদার দাপট বাড়ছে। মর্জিমাফিক চাঁদা চাওয়া হচ্ছে। আর সেটা না দিলেই গাড়ি ভাঙচুর, গাড়ির চালকদের মারধরের ঘটনা ঘটছে। মনেয়ারপুলের ঘটনা সেটারই অন্যতম উদাহরণ।
