Alipurduar | আলিপুরদুয়ারে আক্রান্ত ১ হাজার, ছয় বছরের রেকর্ড ভাঙল ম্যালেরিয়া

Alipurduar | আলিপুরদুয়ারে আক্রান্ত ১ হাজার, ছয় বছরের রেকর্ড ভাঙল ম্যালেরিয়া

ব্লগ/BLOG
Spread the love


অভিজিৎ ঘোষ, আলিপুরদুয়ার : এবার ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যায় বিগত ৬ বছরের রেকর্ড ভেঙে ফেলল আলিপুরদুয়ার। জেলায় ম্যালেরিয়ার বাড়বাড়ন্ত নজরে আসে অগাস্ট মাস থেকে। ওই মাসের শুরুর দিকে যখন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১০০ জন, তখন ডিসেম্বরের শেষদিকে তা দশগুণ বেড়ে হাজারে পৌঁছে গিয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তবে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ কমে যাবে বলে আশায় রয়েছেন তাঁরা।

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে আলিপুরদুয়ার জেলায় ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হয়েছিলেন ৪১ জন। ২০২৪ সালে সেই সংখ্যাটা একলাফে অনেকটা বেড়ে গিয়ে হয় ৭৪৬। আর ২০২৫ সালে জেলায় এখনও পর্যন্ত ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার। এ নিয়ে এদিন জেলা উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুপ্রিয় চৌধুরী বলেন, ‘এবছর জেলায় প্রায় ১ হাজার জন ম্যালেরিয়ার আক্রান্ত হয়েছেন। তবে কারও মৃত্যু হয়নি। সবাই প্রায় সুস্থ হয়ে গিয়েছেন।’ শীত যত বাড়বে, ততই ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা কমে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, ২০১৮ সালে জেলায় এইরকম ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা দেখা গিয়েছিল। পরিসংখ্যান বলছে, এবার আলিপুরদুয়ার জেলায় বিগত ছয় বছরের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা। ২০১৯ সালে ৪৪৩ জন, ২০২০ সালে ৪৩ জন, ২০২১ সালে ৩১ জন এবং ২০২২ সালে ৫৩ জন জেলায় ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। আলিপুরদুয়ার জেলায় বরাবর ডেঙ্গিকে নিয়েই চিন্তায় থাকে স্বাস্থ্য দপ্তর। তবে এবছর ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন ৩০০ জন। বিগত বছর এবং এবছর মানুষ যেভাবে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন, তাকে মাথায় রেখে আগামী বছর বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হবে বলে স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর।

স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি সপ্তাহেই ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা কমছে। এখনও পর্যন্ত জেলায় অ্যাক্টিভ ম্যালেরিয়া রোগী রয়েছেন ৪২ জন। গত সপ্তাহে ৫৯ এবং তার আগের সপ্তাহে ১২৮ জন চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত বছর আলিপুরদুয়ার জেলায় সবথেকে বেশি ম্যালেরিয়া আক্রান্তের হদিস পাওয়া গিয়েছিল কুমারগ্রাম ব্লকে। এবছরও এই ব্লকে ৪২৬ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের বেশিরভাগ রায়ডাক, জয়ন্তী চা বাগান এলাকার বাসিন্দা। এদিকে, মাদারিহাট ব্লকে ৩৬৪ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের বেশিরভাগই টোটোপাড়া বল্লালগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা।

রায়ডাকের বাসিন্দা শ্রীবাস ওরাওঁ বলেন, ‘গত বছর গ্রামে অনেকের ম্যালেরিয়া হয়। এবছরও হয়েছে। আমরা সাবধানে রয়েছি। মশারিও ব্যবহার করছি। মশার উপদ্রব তো ছিলই। সেজন্যই হয়তো এবার আবার ম্যালেরিয়া বেশি হয়েছে।’ টোটোপাড়া বল্লালগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রূপচাঁদ টোটোর কথায়, ‘ম্যালেরিয়া নিয়ে অনেকটাই চিন্তা ছিল। তবে এখন কিছুটা কমেছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা খুব ভালো কাজ করেছেন। আমরাও মানুষকে সচেতন করেছি। যাঁদের ম্যালেরিয়া হয়েছে, তাঁদের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।’

স্বাস্থ্যকর্তারা জানাচ্ছেন, এবছর যে এলাকাগুলোয় ম্যালেরিয়া আক্রান্ত দেখা গিয়েছে, সেখানে সমীক্ষা করা হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, পরিযায়ী শ্রমিকদের মাধ্যমেই ম্যালেরিয়া বেশি ছড়িয়েছে। একে নিয়ন্ত্রণ করা প্রথমদিকে সম্ভব হয়নি। আগামীদিনে এ নিয়ে সতর্ক থাকবে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *